কলকাতা

‘এবিভিপির কাজ হতেই পারে না!’ যাদবপুর ও মেদিনীপুর কাণ্ডে মুখ খুলে বড় দাবি শমীকের

শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও এসএফআই-এবিভিপি সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে

Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই ও এবিভিপির সংঘর্ষ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তার মধ্যেই শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও এসএফআই-এবিভিপি সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পরপর এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে পরিকল্পিত চক্রান্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতর থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শমীক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভাঙা এবং মেদিনীপুর কলেজের অশান্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, গোটা বিষয়টি পরিকল্পিত হতে পারে।

শমীকের বক্তব্য, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি সরাসরি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। তাঁর দাবি, এবিভিপির ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে সংগঠনটিকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। যাদবপুরে অশান্তির সময় বিজেপির এক বিধায়কের উপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে শমীক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে বা আশপাশে কোনও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি হলে একজন জনপ্রতিনিধির সেখানে যাওয়ার অধিকার রয়েছে, পাশাপাশি দায়িত্বও রয়েছে। শমীক বলেন, কোচবিহার হোক কিংবা পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোনও প্রান্ত—প্রয়োজনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যেতেই পারেন। কোনও অশান্তির সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে বলে দাবি তাঁর।

একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলিকেও নিশানা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রায় প্রতিটি বিষয়েই বিরোধিতার পথ নিচ্ছে এবং বাংলাতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ তুলে শমীক জানান, বাংলাতেও সেই নীতি কার্যকর করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগের বিরোধিতা করতেই বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক ও অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। যাদবপুর থেকে মেদিনীপুর—পরপর শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংঘর্ষের অভিযোগের মধ্যেই শমীক ভট্টাচার্যের ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’-এর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা বাড়াল।

Related Articles