‘ডায়াবেটিস আছে, চিনি কম খেলেই হল!’ চিনির দাম বাড়তেই বিহারের মন্ত্রীর অদ্ভুত যুক্তি
মন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র কটাক্ষ করেছেন নির্দলীয় বিধায়ক পাপ্পু যাদব।
Truth of Bengal: দেশে চিনি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। হু হু করে দাম বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়েছে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বিহারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার এক অদ্ভুত যুক্তি হাজির করেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় মিষ্টি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে চিনির দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের দৈনিক জীবনযাত্রায় তার কোনো বিশেষ প্রভাব পড়বে না। জেডিইউ নেতার এমন বয়ানে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র কটাক্ষ করেছেন নির্দলীয় বিধায়ক পাপ্পু যাদব। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, গোবরের ওপর ঘি ঢাললেও তার স্বাদ যেমন বদলায় না, এই মন্ত্রীদের কাছ থেকেও তেমন কিছু আশা করা বৃথা। একসময় গ্যাস ও টমেটোর দাম বৃদ্ধি নিয়ে স্মৃতি ইরানি সহ বিজেপি নেতৃত্ব রাস্তায় নামলেও, আজ চিনির দাম বাড়লে ডায়াবেটিসের দোহাই দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই সরকারই সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ডায়াবেটিস বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, বিহারের আরও এক মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও বর্ধিত মূল্য মিললে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হন। তবে চিনির দাম হঠাৎ এতটা বাড়ার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই বাজারে চিনির কৃত্রিম সংকট এবং কালোবাজারি রুখতে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মোদি সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো বড় ব্যবসায়ী বা মজুতদার গুদামে ১৫ দিনের বেশি চিনি আটকে রাখতে পারবেন না। মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি লেনদেন করা ব্যবসায়ীদের প্রতি ১৫ দিন অন্তর সমস্ত মজুত চিনি বাজারে সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।






