ইরানের ড্রোন ও রকেটের মুখে ২১ ভারতীয় নাবিক! ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই কম্পন বিশ্বজুড়ে
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১২% ভারতীয় 'সমুদ্রকর্মী'দের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি, তোলপাড় দিল্লি!
Truth of Bengal: বিশ্বজুড়ে সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাবিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী মোট ‘সমুদ্রকর্মী’ বা নাবিকদের প্রায় ১২.২ শতাংশই ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করার পর, বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী ভারতীয় নাবিকদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অশান্তির আবহে এ পর্যন্ত ১৬ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জনই পেশায় নাবিক।
সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গত এপ্রিল মাসের একটি লোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটি গত ২২ এপ্রিলের ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ওই দিন হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে ধরে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। ভাইরাল হওয়া সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রকেটচালিত গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হচ্ছে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে। চরম আতঙ্কের মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজের ভেতরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন কর্মীরা। ওই জাহাজে ২১ জন ভারতীয় নাবিক উপস্থিত থাকলেও সৌভাগ্যবশত তাঁরা অক্ষত ছিলেন।
এই ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও জাহাজ মন্ত্রক অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। দিল্লির তরফে ইরানি উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত জাহাজ মালিক, ব্যবস্থাপক ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলির উদ্দেশ্যে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, বিপজ্জনক হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজে যেন ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগ না করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক একটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করে, যেখানে নাবিক ও তাঁদের উদ্বিগ্ন পরিবারের থেকে হাজার হাজার ফোন ও ইমেইল জমা পড়ে। এ পর্যন্ত বিপজ্জনক উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৩,৯৭২ জন ভারতীয় নাবিককে সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মৃত নাবিকদের পরিবারের সহায়তায় ‘সিফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি’-র মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদানও দেওয়া হয়েছে।
ভারত সরকার একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করছে, তেমনই ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি।





