কলকাতা

“দেশবিরোধী স্লোগান উঠলেই আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক!”, যাদবপুর কাণ্ডে দিলীপ ঘোষের চরম হুঁশিয়ারি

"৬ মাস অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু হবে!", যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডবের পর এবার কি বড় পদক্ষেপে বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা?

Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পারদ আরও বাড়িয়ে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে আবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করা হবে বলে মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

গত বুধবার রাতে ফ্যাকেল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা ‘ফেটসু’-র সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৈঠক চলাকালীন অরবিন্দ ভবনে এবিভিপি সমর্থকরা ঢুকে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ। আর তাতেই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, যা পরবর্তীতে বামপন্থী ও ডানপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে মারাত্মক মারপিটে পরিণত হয়। এই ঘটনায় আহত কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে এসএফআই ও এবিভিপি-র পালটা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির আবহেই শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আমি ইন্দোরে ছিলাম, তাই ঠিক কী ঘটেছে সবটা জানি না। তবে দেশবিরোধী কাজ কোনওভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূল আসলে এই দেশবিরোধীদের লালন-পালন করে এসেছে। আগেও এবিভিপি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছে। দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে যাদবপুরে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।” একই সাথে এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আর ৬ মাস অপেক্ষা করুন, অনেক কিছুই ঘটবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও একই সুর তুলে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ তৈরির কেন্দ্র করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। দেশবিরোধী স্লোগান ও আন্দোলন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে বার্তা দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, “আমরা প্রথমে দেশের নাগরিক, তাই সবসময় দেশের হয়ে কথা বলতে হবে। এখানে ‘ইনশাআল্লাহ’ বা ‘আজাদি’ জাতীয় কোনও স্লোগান দেওয়া যাবে না।” দুই বিজেপি নেতার এমন আগ্রাসী মন্তব্যের পর যাদবপুরের ছাত্র রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন আরও চরম আকার ধারণ করেছে।

Related Articles