দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরল ‘ধাম’ শব্দ, এখন শুধুই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী
Truth of Bengal: ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির চিঠির পর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ‘ধাম’ শব্দ। এবার থেকে এই মন্দির পরিচিত হবে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামে। তবে প্রতিদিন নিয়ম মেনেই জগন্নাথ দেবের পুজো হবে। পুজো বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনও ছেদ পড়বে না বলে মঙ্গলবার নবান্নে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত চারধামের অন্যতম হল পুরী। বাকি তিনটি ধাম হল বদ্রীনাথ, দ্বারকা এবং রামেশ্বর। সেই প্রেক্ষিতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে বহুদিন ধরেই আপত্তি উঠছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, কোনও মন্দিরকে কি এভাবে ‘ধাম’ বলা যায়? ওড়িশাবাসী এবং জগন্নাথ ভক্তদের একাংশের দাবি ছিল, এই নামকরণ তাঁদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে দিঘায় নির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’। পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ইসকনকে। কিন্তু ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থামেনি। এবার সেই শব্দটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে প্রতিনিধি হিসেবে আসেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এতে ওড়িশাবাসী ও জগন্নাথ ভক্তদের মনে আঘাত লেগেছে। সেই চিঠি গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিঘার মন্দিরে সনাতনী রীতি মেনেই পুজো চলবে, তবে নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সনাতন সংস্কৃতিকে অপমান করেছে তৃণমূল সরকার। দিঘার মন্দিরে সনাতনী সংস্কৃতি মেনেই পুজো হবে। কিন্তু ধাম শব্দটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” বিরোধী দলনেতা থাকার সময়ও শুভেন্দু অধিকারী দিঘার মন্দিরের নামে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সরকারি টাকায় অন্য নামে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি মায়াপুর ইসকনেও গিয়েছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এদিন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পর সরকারিভাবে ‘ধাম’ শব্দ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। দিঘার মন্দির ঘিরে এর আগে ‘দুয়ারে প্রসাদ’ বিতরণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের প্রসাদ বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই বিতর্কের আবহেই এবার নাম সংশোধনের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, “ধাম শব্দটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। তাই সেটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিঘার মন্দিরের নাম হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। হিডকোর টেন্ডারেও এই নামই রয়েছে। স্থাপত্যটি মন্দির নামেই পরিচিত হবে এবং সনাতন সংস্কৃতির রীতি-নীতি মেনেই এখানে পুজো হবে।”






