পার্কের মূল গেট ঢাকা, ছিল না কোনও আপৎকালীন পথ! চোরবাগান বিপর্যয় নিয়ে SIT-এর রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য
একসঙ্গে ২০ জন বেরোনোর জায়গাও ছিল না! চোরবাগানের সরু গলি ও বন্দোবস্ত নিয়ে সিট-এর বিস্ফোরক তথ্য
Truth of Bengal: চোরবাগান সর্বজনীন (সারদা পার্ক) পুজো চত্বরে সেদিনের সেই মর্মান্তিক ভিড় ও পদপিষ্টের ঘটনার পর এবার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে আনল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই পুজো মণ্ডপের ভেতর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি ছিল। পার্কের মূল গেট এমনভাবে মণ্ডপ দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যে, চাইলেও প্রয়োজনে সেই গেট বন্ধ করে বা খোলা রেখে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করার বিন্দুমাত্র উপায় ছিল না। এমনকি বাইরে বেরোনোর পথটিও ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ, যেখানে একসঙ্গে কুড়ি জনের বেশি মানুষের বেরোনোর মতো ন্যূনতম জায়গাও রাখা হয়নি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যে গলিপথ ধরতে হতো, তাতেও পাশাপাশি মাত্র তিনজন মানুষ একসঙ্গে হাঁটতে পারতেন! কোনও রকমে সেখান থেকে বের হতে পারলেও পুজো কমিটির বসানো অস্থায়ী খাবারের স্টলের কারণে তৈরি হয়েছিল বাড়তি জট। এখানেই শেষ নয়, ভুবন ব্যানার্জি লেন হয়ে মুক্তারবাবু স্ট্রিটে যাওয়ার মূল রাস্তাটি পর্যন্ত গার্ডরেল দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পার্কের পাশের রাস্তা ধরে রাধামাধব লেন হয়ে বেরোনোর বিকল্প রাস্তাও রাখা হয়নি। অর্থাৎ, যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বা বিপদের মুহূর্তে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার মতো কোনও আপৎকালীন পথই পুজো প্রাঙ্গণে খোলা ছিল না।
বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এ ধরনের মারাত্মক ও অপরিকল্পিত বন্দোবস্তের কারণেই সপ্তমীর রাতে সেখানে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে এবং ১৯ জন দর্শনার্থীর প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে। এদিকে এই রিপোর্টের ভিত্তিতে খুব দ্রুতই তা সরকারের কাছে জমা পড়তে পারে বলে খবর। ইতিমধ্যে সিট-এর অনুমতি পাওয়ায় শনিবার চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মণ্ডপের অন্যান্য অংশ অপরিবর্তিত রেখে মূল প্রবেশপথ ভেঙে প্রতিমা নিমতলা ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কুমোরটুলি থেকে আসা ৩৬ জনের একটি বিশেষ ভারী বাহক দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে ও বাঁশের ওপর ভর করে প্রতিমাটি সাবধানে বাইরে বের করে আনে। উচ্চতার কারণে লরিতে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাতে টানা ট্রলিতে বসিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ধরে নিমতলা ঘাটের দিকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়।





