মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’—সেই ঘোষণাতেই কি আতঙ্ক? চোরবাগান কাণ্ডে ফেসবুকে পোস্ট ধৃত কুশলের
কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এই ঘটনা এক মর্মান্তিক অধ্যায় হয়ে রয়েছে
Truth of Bengal: মাত্র তিনটি শব্দ—‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’। আর সেই ঘোষণাকে ঘিরেই চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় ভয়াবহ বিপর্যয়ের সূত্রপাত বলে অভিযোগ উঠেছে। সপ্তমীর রাতে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে এই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হুড়োহুড়ি, বাড়ে দৌড়াদৌড়ি। আর তারই পরিণতিতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এই ঘটনা এক মর্মান্তিক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দুই ঘোষককে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী দল। কিন্তু ঠিক কী পরিস্থিতিতে এমন ঘোষণা করা হয়েছিল? এবার সেই বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন ধৃত ঘোষক কুশল মজুমদার। লালবাজারের তদন্তকারী দলের হাতে প্রথমে গ্রেপ্তার হন চোরবাগান সর্বজনীনের আর এক ঘোষক সেন্টু। তাঁকে নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় কুশল মজুমদারকেও। শুক্রবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করে ঘটনার রাতের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন কুশল। হাতে লেখা একটি কাগজের ছবি দিয়ে তিনি জানান, কীভাবে বৃষ্টি, ভিড় এবং মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে যাওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। তবে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কীভাবে তাঁর প্রোফাইল থেকে পোস্টটি করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিজের পোস্টে কুশল দাবি করেছেন, তিনি গত ২০ বছর ধরে চোরবাগান সর্বজনীনের সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে তিনি বাড়ি থেকে মণ্ডপে পৌঁছন। তখন ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন গিরিশ পার্ক থানার বড়বাবু ও ছোটবাবু। কিছুক্ষণ পর চা আনতে ক্লাব থেকে বের হন কুশল এবং সহ-সভাপতি কুশল দুবে। ফেরার পথে বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সময় দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। কুশলের দাবি, তখন কোষাধ্যক্ষ সেন্টু মাইকে বারবার দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার এবং হুড়োহুড়ি না করার আবেদন জানাচ্ছিলেন। কুশলের বক্তব্য অনুযায়ী, এরপর তাঁরা ক্লাবের ভিতরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর বাইরে চিৎকার শুনতে পান। সেই সময় উপস্থিত পুলিশকর্তারা ক্লাব থেকে বেরিয়ে যান বলে তাঁর দাবি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই চোরবাগান সর্বজনীনের সম্পাদকের ছেলে কবীর এসে জানান, মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে গিয়েছে। কুশলের দাবি, ঠিক সেই সময় এক পুলিশকর্মী তাঁকে মাইকে ঘোষণা করতে বলেন।
কুশল জানিয়েছেন, সম্পাদকের ছেলের কাছ থেকে পিছনের অংশ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরই তিনি দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ না করার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, মূল মণ্ডপের অবস্থা খারাপ এবং একসঙ্গে প্রচুর মানুষ প্রবেশ করলে মণ্ডপের ভিত আলগা হয়ে ভেঙে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তিনি সতর্ক করেছিলেন। তাঁর দাবি, কাউকে আতঙ্কিত করা বা কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ঘোষণা করেননি। পোস্টে মাইকের অবস্থান নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কুশল। তাঁর দাবি, মণ্ডপের ভিতরে কিংবা মাঠের চারদিকে মাইক লাগানো ছিল না। মাইকের মুখ ছিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট, অমর বসু সরণি এবং পার্বতী ঘোষ লেনের দিকে। এমনকী, ঘোষণা করার আগেই পুলিশকে দিয়ে মণ্ডপে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।






