চোরবাগানে “মণ্ডপ ভেঙে পড়েছে” মাইকে বলা ঘোষক সেন্টু আটক নদিয়া থেকে
৩ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা বিরাট চ্যালেঞ্জ! মুখ খুললেন সিটের প্রধান প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী
Truth of Bengal: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে দিল লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ও ফরেনসিক টিম। থ্রি ডি স্ক্যানার-সহ আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তদন্তকারীরা। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে দুর্ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে দেখেন তাঁরা। ঘটনার দিন ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ কত ফুট চওড়া ছিল এবং কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ার’ মতো চরম বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করা হয়েছিল, এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনায় মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণাকারী অভিযুক্ত ক্লাব সদস্য সেন্টুকে নদিয়া থেকে আটক করে সোজা লালবাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে ধৃত সাতজন জেরা করার সময় সেন্টুর নাম প্রকাশ করে। কার প্ররোচনা বা নির্দেশে সে ওই ধরনের ভীতিপ্রদ ঘোষণা করেছিল এবং তার নেপথ্যে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে এখন তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যে ছয় সদস্যের হাই-প্রোফাইল সিট গঠন করেছে, তাঁদেরও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিট প্রধান তথা প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এই তদন্ত শেষ করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সত্য উদ্ঘাটন করা, মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিচারবিভাগীয় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মেনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই সিট গঠিত হয়, যেখানে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব, এসটিএফ ডিজি ও আইজি, এনডিআরএফ এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিরা স্থান পেয়েছেন। অপরাধীদের কাউকে যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না, প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে এখন চোরবাগান কাণ্ডের আসল সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।






