প্রতিমা নিরঞ্জন বিশ বাঁও জলে! তদন্তের জালে আটকে থেকে গেল চোরবাগানের দুর্গা প্রতিমা?
উৎসবের আলো নিভে চোরবাগানে নেমে এল শ্মশানের নিস্তব্ধতা! সিটের তদন্ত ও পুলিশি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ঝুলে রইল প্রতিমা নিরঞ্জন
Truth of Bengal: তিলোত্তমার সপ্তমীর সন্ধ্যা আলো ঝলমলে উৎসবের আমেজ কেড়ে নিয়েছিল এক নিমেষে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯টি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর থেকেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও শ্মশানের নিস্তব্ধতা। যে মণ্ডপ কিছু সময় আগেও দর্শনার্থীদের ভিড়ে তিলধারণের জায়গা ছিল না, আজ তা কেবলই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাস্থল। পুলিশি পাহারা ও ব্যারিকেডে ঘেরা সেই মণ্ডপে বিজয়া দশমীর দিনেও পুরোপুরি অন্ধকার ও বিষাদের ছায়া থমকে রয়েছে।
পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম ও প্রথা মেনে দেবীবরণ সম্পন্ন না হলেও কেবল ঘট বিসর্জনের পর্বটি সারা হয়েছে। তবে মূল প্রতিমা নিরঞ্জন কবে এবং কীভাবে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও পর্যন্ত স্থির করা সম্ভব হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) বর্তমানে গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। সিট-এর প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পরই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করবেন। পুলিশ ও প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেত বা চূড়ান্ত ছাড়পত্র না মেলায় আপাতত চোরবাগান সর্বজনীনের প্রতিমা বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
চোরবাগানের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করাই এখন এই বিশেষ তদন্তকারী দলের মূল লক্ষ্য। সেদিন ঠিক কোন সময়ে, কোন নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রথম ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল এবং মণ্ডপের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত দর্শনার্থী ভেতরে প্রবেশ করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার রাতে মুষলধারে বৃষ্টি নাকি ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ এমন কোনো ভয়াভহ গুজব ছড়িয়ে পড়ার জেরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল, সেই সমস্ত বিতর্কিত বিষয়গুলির নেপথ্য সত্যও উন্মোচন করবে এই কমিটি।
ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মর্মান্তিক ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এর নেপথ্যে যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। কলকাতা পুলিশ ও পুরসভাকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম ও হাই-প্রোফাইল সিট গঠন করে সত্য সন্ধানে নেমেছে প্রশাসন। স্বজনহারা পরিবারগুলির কান্না আর রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার মাঝে এখন কেবলই ন্যায়বিচারের অপেক্ষা পুরো রাজ্যের মানুষের।






