হাতে ২০৯, ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫! বিজয়া দশমীতেই বিরোধীদের বড় চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
প্রধান বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারেন বলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি
Truth of Bengal: বিধানসভায় বিজেপির হাতে এখন ২০৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তবে ফ্লোর টেস্ট হলে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৭৫-এ পৌঁছে যাবে। বিজয়া দশমীর দিন বিরোধীদের এমনই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, প্রধান বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারেন বলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পাল্টা আক্রমণে নেমেছে সিপিএম ও তৃণমূলের দুই শিবিরও।বুধবার বরানগরে বামেদের বুকস্টল নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই বিধানসভার সংখ্যার হিসাব তুলে ধরে ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘টক শোয়ের এক বিজ্ঞ-জ্ঞানী তো বলেছিলেন, বিজেপি ১৫০ আসনে লড়ছে। বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। এখন বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫ জন সমর্থন দেবে।’’ কীভাবে ২০৯ থেকে সংখ্যাটা ২৭৫-এ পৌঁছবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর সমর্থনে হাত তোলার জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষকে দেখিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিরোধী শিবিরের অন্দরে কি কোনও ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা বিধায়কদের একাংশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। সংশ্লিষ্ট শিবিরের দাবি, তাদের সঙ্গে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, বিজেপির দিকে তাঁদের ঝুঁকে পড়ার অভিযোগও উঠেছে বারবার। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণেই তাঁরা তৃণমূল ছেড়েছেন এবং তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে এবার ওই বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিপিএম। দলের নেতা শতরূপ ঘোষের দাবি, বিরোধী শিবির বিজেপির নির্দেশে চলছে বলে তাঁরা প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছেন। শুভেন্দুর মন্তব্য তাঁদের সেই দাবিকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন তিনি। শতরূপের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে। তাঁর দাবি, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অস্বস্তি এড়াতে পারেনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। ওই শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী কেন এমন মন্তব্য করেছেন, তা তিনিই বলতে পারবেন। বিজেপির সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা কালীঘাটের শিবির ছেড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের নয়। এদিকে, কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরও এই সুযোগে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ তাঁদের ‘বিজেপির দালাল’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, বিরোধী ভোটে জিতলেও ওই শিবিরের বিধায়কেরা বিজেপির দিকে ঝুঁকে রয়েছেন বলেই মুখ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে কুণালের পাল্টা চ্যালেঞ্জ, বিধানসভায় গোপন ব্যালটে ফ্লোর টেস্ট করানো হোক। তাতেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই শিবিরের বিধায়কদের ফিরে আসার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে কালীঘাটের শিবির। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর ২৭৫ জনের সমর্থনের দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বাস্তব ভিত্তি কতটা, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। আপাতত ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা।






