‘শাটডাউনে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! কোন কোন দফতর বন্ধ, খোলাই বা কোন দফতর?
Truth Of Bengal: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে শাটডাউন। দেশটির সেনেট মঙ্গলবার সরকারের তহবিল সংক্রান্ত বিল পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্যদের বৈঠক হলেও তহবিল বরাদ্দ নিয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি।
সোমবার ট্রাম্প নিজে সেনেট সদস্যদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। তবু চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে শাটডাউন ঘোষণা করে। ভারতীয় সময় বুধবার সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে (স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা) এটি কার্যকর হয়েছে।
শাটডাউন কী?
মার্কিন সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজ চালানোর জন্য প্রতি অর্থবর্ষে কংগ্রেসকে অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়। অর্থবর্ষ শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। যদি সেনেট সদস্যরা ব্যয় বরাদ্দ নিয়ে একমত না হন, তবে দফতরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যত দিন কংগ্রেস তহবিল অনুমোদন দেয় না, তত দিন সরকারী কার্যক্রম স্থগিত থাকে।
সেনেটে রেপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩, যা কোনও বিল পাস করার জন্য কমপক্ষে সাতজন ডেমোক্র্যাটের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু তহবিল সংক্রান্ত বিল পাসে এই সমর্থন পাওয়া যায়নি। সিএনএন জানিয়েছে, অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত ১২টি বিলের মধ্যে কোনোটিই এখনও আইনসভার দুই কক্ষে পাস হয়নি। ফলে ‘শাটডাউন’ সম্পূর্ণ।
কোন কাজ চলবে, কোন বন্ধ হবে
শাটডাউনের সময় অধিকাংশ সরকারি দফতরের কাজ বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবাগুলো চালু থাকবে। যারা শাটডাউন চলাকালীনও কাজ করবেন, তাঁদের বেশির ভাগই বেতন পাবেন না, তবে শাটডাউন শেষ হলে বেতন পুনঃপ্রদান করা হবে।
শাটডাউনের প্রভাব পড়বে খাদ্য দফতরে। জরুরি পরিষেবা চালু থাকলেও অন্যান্য কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষা দফতর অধিকাংশ কর্মীকে আপাতত বসিয়ে রাখবে। স্বদেশ নিরাপত্তা দফতর, শুল্ক ও সীমান্তরক্ষা, অভিবাসন, পরিবহণ নিরাপত্তা, সিক্রেট সার্ভিস, নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। প্রতিরক্ষা দফতরও নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু রাখবে, যার মধ্যে দক্ষিণ সীমান্ত, পশ্চিম এশিয়া ও গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পাবে।
বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বন্ধ হবে না। শ্রম দফতর জানিয়েছে, যতক্ষণ তহবিল আছে, বেকারদের সুযোগ-সুবিধা চলবে। তবে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীদের বিনা বেতনে কাজ করতে হবে।
কত দিন চলবে শাটডাউন?
শাটডাউনের সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৫ দিনের জন্য শাটডাউনে ছিল, যা ইতিহাসের দীর্ঘতম। তহবিল সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের দোষারোপ করছেন এবং গণছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘শাটডাউনের অনেক ভাল দিকও রয়েছে। আমরা যেগুলো চাই না, তেমন অনেক জিনিস ফেলে দিতে পারি। অনেককে ছাঁটাই করা হবে। তাঁরা প্রত্যেকেই হবেন ডেমোক্র্যাট।’’






