আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান কি তবে প্রস্তর যুগেই থেকে গেল? ভাইরাল ভিডিয়োতে দমকলকর্মীদের কাণ্ড দেখে মাথায় হাত নেটিজেনদের

দমকলকর্মীদের কার্যকলাপ দেখে বিস্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরা

Truth of Bengal: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে পাকিস্তানের জরুরি পরিষেবা ও জননিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি আবাসিক ভবনে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা আধুনিক ফায়ার টেন্ডার বা উচ্চচাপের জলছিটে ব্যবস্থার পরিবর্তে বালতিতে করে জল বহন করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।ভাইরাল হওয়া ক্লিপের সঙ্গে থাকা দাবিতে বলা হচ্ছে, ঘটনাটি একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন লাগার খবর দিয়ে দমকল বিভাগকে খবর দেন এবং স্বাভাবিক জরুরি পরিষেবার আশাই করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলকর্মীদের কার্যকলাপ দেখে বিস্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ভিডিওতে দেখা যায়, যান্ত্রিক সরঞ্জামের বদলে অত্যন্ত প্রাথমিক উপায়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।

একটি ভিডিওতে এক পথচারীর কণ্ঠ শোনা যায়, যিনি দমকলকর্মীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তার কণ্ঠে অসন্তোষ ও হতাশা স্পষ্ট, যা দেখে বোঝা যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই এই পরিস্থিতিকে যথেষ্ট অপ্রস্তুত বলে মনে করেছেন।ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। বহু ব্যবহারকারী এটিকে পাকিস্তানের জরুরি পরিষেবার আর্থিক সংকট ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে দমকলকর্মীদের জীবননাশের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, যা একই সঙ্গে জনসাধারণের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। একজন ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লেখেন, “পাকিস্তান এখনও প্রস্তর যুগে বাস করছে।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “ওদের কাজের গতি আর তৎপরতা দেখুন। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে। আগুন নেভানোর প্রকৃত আগ্রহ নেই। হয়তো ওরাও জানে, এতে কিছুই হবে না, তবুও দেখাতে হচ্ছে যে কাজ চলছে।” তৃতীয় একজন লেখেন, “অন্যদের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের সমস্যার দিকে নজর দিন। আমরা নিজেরাই দু’ঘণ্টা ধরে ড্রেনে পড়ে যাওয়া একজন মানুষকে উদ্ধার করতে পারিনি।”

তবে সব প্রতিক্রিয়াই দমকলকর্মীদের দোষারোপ করেনি। অনেকেই মত দিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত জরুরি পরিষেবা কর্মীরা প্রায়শই এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করেন, যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরঞ্জামের ঘাটতি, দেরিতে পৌঁছনো বা স্থানীয় বাস্তবতা—এই সবকিছুই এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে বলে তাঁদের মত। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও পর্যন্ত ভিডিওটির নির্দিষ্ট অবস্থান, ঘটনার সময় বা প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। আগুন নেভানোর সময় ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেন সীমিত ছিল, তা যান্ত্রিক ত্রুটি, লজিস্টিক সমস্যার কারণে নাকি অন্য কোনও কারণে—সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। তবুও এই ভিডিও ফের একবার জননিরাপত্তা ব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বহু দর্শকের কাছে এই দৃশ্য আধুনিক নগর ব্যবস্থায় জরুরি পরিষেবা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেকার ফারাককে স্পষ্ট করে তুলেছে।

Related Articles