কলকাতা

ঝুঁকি এড়াতে সরানো হল লেক টাউনের ৭০ ফুটের মেসি মূর্তি! কোথায় পুনঃস্থাপন হবে?

নিরাপত্তার খাতিরেই তড়িঘড়ি এটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন

Truth of Bengal: দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতার ভিআইপি রোডের লেক টাউন মোড় থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু মূর্তিটি। সোমবার সকাল থেকেই প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও পিডব্লিউডি (PWD) ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতিতে এই মূর্তি অপসারণের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি ঝোড়ো হাওয়ায় বিশাল এই মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকায় ভিআইপি রোডের মতো ব্যস্ততম রাস্তায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তার খাতিরেই তড়িঘড়ি এটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকেই লেক টাউন মোড়ে মূর্তি সরানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চোখে পড়ে। বিশালাকার এই ফাইবার বা মেটালের তৈরি মূর্তিটিকে অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে আনা প্রশাসনের কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষাধিক ফুটবলপ্রেমীর আবেগ।

কাজটি নিরাপদে সম্পন্ন করতে প্রথমে মূর্তির চারপাশে বাঁশের মজবুত খাঁচা তৈরি করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক হাইড্রোলিক ক্রেন এবং উঁচু সিঁড়ি। পিডব্লিউডি-র ইঞ্জিনিয়ারদের নিখুঁত তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দড়ি আলগা করে ক্রেনের সাহায্যে ৭০ ফুটের মেসি-মূর্তিটিকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে না, বরং এটিকে অন্য একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হবে। গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম লক্ষ্য করেন যে, সামান্য জোর হাওয়া দিলেই লিওনেল মেসির এই বিশাল মূর্তিটি মাঝবরাবর কাঁপছে ও দুলছে। প্রায় দোতলা সমান উঁচু একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্মের উপর মূর্তিটি স্থাপিত হওয়ায় এর ওজন ও ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় এবং স্থানীয়রা দ্রুত পুরসভা ও পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পিডব্লিউডি-র একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে মূর্তিটি পরীক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গাঠনিক ত্রুটি বা আলগা হয়ে যাওয়ার কারণে এটি সত্যিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এর মাঝেই একদিন কালবৈশাখী ঝড়ের সময় মূর্তিটি আরও মারাত্মকভাবে দুলতে শুরু করলে আতঙ্ক চরমে পৌঁছায়। যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে বিগত দু’সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের তরফে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মূর্তির ঠিক পেছনের রাস্তা, সামনের উল্টোডাঙা-এয়ারপোর্ট কানেক্টিং ফ্লাইওভারের একটি অংশ এবং সংলগ্ন মাঠ সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সাময়িকভাবে মূর্তিটিকে শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধেও রাখা হয়েছিল। সোমবার অবশেষে এই বিপজ্জনক মূর্তিটি পুরোপুরি নেমে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন লেক টাউন ও ভিআইপি রোড দিয়ে যাতায়াত করা হাজার হাজার নিত্যযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে ওই এলাকায় ট্রাফিকের গতিও আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Articles