আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির নিশ্বাস! আরও ৩ সপ্তাহ বাড়ছে যুদ্ধবিরতি, বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা।

Truth of Bengal: লেবানন এবং ইজরায়েলের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়ের মধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসে আলোচনায় বসতে পারেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো, ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা।

ট্রাম্প বলেন, তিনি আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মুখোমুখি আলোচনায় বসতে পারেন। এদিকে যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি তখনই ফিরবে, যখন ইরান হিজবুল্লাকে অর্থ সাহায্য দেওয়া বন্ধ করবে। তাঁর দাবি, লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার প্রভাব ও হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। ট্রাম্প আরও জানান, হিজবুল্লার হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য লেবাননকে সাহায্য করতে আমেরিকা তাদের সঙ্গে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর পরেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার পরই লেবাননের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ইজরায়েল। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লা, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইজরায়েলি আগ্রাসন এবং সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার প্রতিবাদে হামলা শুরু করে বলে দাবি। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইজরায়েলও লেবাননে ধারাবাহিক হামলার নির্দেশ দেয়। এই সংঘর্ষে লেবাননে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। পাশাপাশি ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। টানা অস্থিরতার মধ্যেই দিন দশেক আগে লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। এ বার সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোয় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, স্থায়ী শান্তি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

Related Articles