বন্ডি বিচে সন্ত্রাসী হামলা: ১৫ জনকে হত্যা করা পিতা-পুত্রের পাকিস্তান যোগ
অস্ট্রেলিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘এএসআইও’-কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সম্ভবত তারা পাকিস্তানের নাগরিক বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, পরে অস্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছেন।
Truth Of Bengal: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ভয়াবহ গুলি চালানোর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দু’জনের নাম আগেই জানানো হয়েছিল। এখন পুলিশ তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। পুলিশের মতে, রবিবার সমুদ্রসৈকতে ভিড়ের মধ্যে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৫ জনকে হত্যা করেছে এই দু’জন। তাঁদের একজন হলেন সাজিদ আক্রম (৫০) এবং অন্যজন তাঁর ছেলে নবিদ আক্রম (২৪)। অস্ট্রেলিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘এএসআইও’-কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সম্ভবত তারা পাকিস্তানের নাগরিক বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, পরে অস্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের পুলিশ কমিশনার মার লানিয়ন জানিয়েছেন, এই হামলায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তি জড়িত নয়। ঘটনার কাছ থেকে দুটি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ‘এবিসি নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস)-এর পতাকা পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাজিদ আক্রমের নামে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। পুলিশের ধারণা, রবিবারের হামলায় সব ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার সময় বন্ডি সৈকতে ইহুদি হানুকা উৎসব চলছিল, যেখানে প্রায় ১০০০ জন উপস্থিত ছিলেন। আচমকা ওই দুই বন্দুকধারী সৈকতে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করেন। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ১৫ জন নিহত হন। পুলিশের গুলিতে নিহত হন পিতা সাজিদ; অপরদিকে পুত্র নবিদ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়া আরও ৪০ জন আহত হন, তাদের মধ্যে দু’জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন।
নিহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে এবং নারী ও শিশুরাও আক্রান্ত হয়েছেন। হামলার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া সরকার এই ঘটনার ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলার তকমা দিয়েছে। হামলার আগে পুত্র নবিদ গাড়ি চালিয়ে সমুদ্রসৈকতে পৌঁছেছিল, এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও পুলিশ জব্দ করেছে।






