ফের জলরোষে তছনছ নেপাল! হড়পা বানে হুড়মুড়িয়ে ভেসে গেল আস্ত বাড়ি ও সেতু!
রবিবার সকালেই প্রলয়ঙ্করী দৃশ্য! বুধি গণ্ডকী নদীর করাল গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ জনপদ
Truth of Bengal: প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিশাপ যেন কিছুতেই কাটছে না নেপালের। গত আগস্ট মাসের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার স্মৃতি টাটকা থাকতেই ফের বিপর্যয় নেমে এল হিমালয়ের কোলে। রবিবার সকালে আচমকা হড়পা বানে (Flash Flood) তছনছ হয়ে গেল নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রবল জলস্রোত ও কাদা-পাথরের কালো জলের তোড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে গেল একাধিক পাকা বাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতু। আকস্মিক এই জলরোষের সামনে সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে নেপালের গোরখা অঞ্চলে হঠাৎ করেই বুধি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান নামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাহাড়ের বুক চিরে প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসা জলের ভয়ংকর ঢেউ মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি গিলে খাচ্ছে। তবে এই নতুন বিপর্যয়ের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ এখনও স্পষ্ট করা যায়নি। এমনকি নেপালের বেশিরভাগ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্ব পূর্বাভাস বা খবরও ছিল না। আচমকা এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রবিবার সকালেই নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে উচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততক্ষণ যেন কেউ প্লাবিত এলাকায় না যান। নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ আগস্ট মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এক বিধ্বংসী হড়পা বানে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ত্রিশূলী ও ভোটকোশি নদীর জলে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই ভয়ংকর দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১৪৫৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং ৫,২৮৫ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বত অঞ্চলে শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং নেপালে ১৮৯ জন ভারতীয় সহ ৩৬টি দেশের ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটকের কোনও খোঁজ মেলেনি। সেই মর্মান্তিক ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি, তার মধ্যেই বুধি গণ্ডকীর হড়পা বান নেপালবাসীকে আরও একপ্রস্থ চরম আতঙ্কের মুখে ঠেলে দিল।






