আন্তর্জাতিক

মাঝআকাশে কো-পাইলটের নৃশংস হামলা, ছুরির কোপে রক্তাক্ত, এখন কেমন আছেন ভারতীয় পাইলট?

"মাথা-হাত ছিটকে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাচ্ছিল!" দুবাই-তেল আভিভ ফ্লাইটে সহ-পাইলটের পৈশাচিক হামলা, রোমহর্ষক ঘটনার জবানবন্দি

Truth of Bengal: মাটি থেকে প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে মেঘের দেশে তখন ডানা মেলে উড়ছিল যাত্রীবাহী বিমান। হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতরে শুরু হয়ে গেল রক্তক্ষয়ী তুলকালাম ও জীবন-মৃত্যুর বিভীষিকা! উন্মাদের মতো সহ-পাইলটের আকস্মিক ও পৈশাচিক ছুরির কোপে রক্তে ভেসে ককপিটের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন অভিজ্ঞ ভারতীয় চিফ পাইলট স্মিত মচ্ছার (Smit Machhar)। মাথা ও দুই হাত ক্ষতবিক্ষত, শরীর থেকে গলগল করে বেরোচ্ছে তাজা রক্ত, চরম মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও কিন্তু হার মানেননি সেই সাহসী ভারতীয় সন্তান! অদম্য আত্মশক্তিতে ভর করে কোনও মতে ককপিটের ইমার্জেন্সি দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন তিনি। আর তাতেই বিমানে থাকা ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে কবজা করেন।

মাঝআকাশের এই শিউরে ওঠার মতো ভয়াল ঘটনার গায়ে কাঁটা দেওয়া বর্ণনা দিয়েছেন বিমানে থাকা ইজরায়েলি যাত্রী ড. শোতা মোসায়েভ। পেশায় দন্ত চিকিৎসক ড. মোসায়েভ সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ককপিটের দরজা খুলতেই তাঁরা দেখেন, হামলাকারী সহ-পাইলট উন্মত্তের মতো স্মিত মচ্ছারের বুকের ওপর চেপে বসে একের পর এক ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছে! দ্রুত সবাই মিলে হামলাকারীকে ধরে নিরস্ত্র করা হয়।

ড. মোসায়েভের ভাষায়, “পাইলট স্মিত মচ্ছারের মাথা ও দুই হাতে অগুনতি গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। ছুরির মারাত্মক কোপে মনে হচ্ছিল হাত দুটি প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে! অঝোরে রক্তক্ষরণের ফলে এক পর্যায়ে উনি সংজ্ঞাও হারিয়ে ফেলেন। বিমানে আমিই একমাত্র চিকিৎসক থাকায় তড়িঘড়ি প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি। সামান্য দেরি হলেই হয়তো ওনাকে আর বাঁচানো যেত না।” দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাই দুবাই’ (FlyDubai)-এর ওই বিমানে স্মিতের এই অলৌকিক উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই নিশ্চিত বড়সড় ধ্বংসলীলার হাত থেকে বেঁচে যান শতাধিক বিমানযাত্রী।

উল্লেখ্য, স্মিত মচ্ছার বিগত ১৩ বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমান চালাচ্ছেন। এর মধ্যে দীর্ঘ ১০ বছর তিনি ভারতের অন্যতম পরিচিত ‘স্পাইসজেট’ (SpiceJet)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি যুক্ত হন ‘ফ্লাই দুবাই’ সংস্থায়। আকাশে প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর সুবিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের জখম শরীরের পরোয়া না করে কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব যেভাবে পালন করেছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত, তাতে তাঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সমগ্র বিশ্ববাসী।