আন্তর্জাতিক

কাজের চাপে ‘সমকামি’ জীবনধারায় ঝুঁকছে মানুষ! মালয়েশীয় মন্ত্রীর আজব যুক্তিতে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় সমকামিতা এখনও আইনিভাবে নিষিদ্ধ।

Truth Of Bengal: মানুষের সমকামী বা রূপান্তরকামী (LGBT) জীবনধারায় আকৃষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ! মালয়েশিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসানের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিদ্রুপ।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিরোধী দলীয় সাংসদ সিতি জাইলা মোহম্মদ ইউসুফ দেশে এলজিবিটি সংশ্লিষ্ট ইস্যু, বয়স ও জাতিগত ভিত্তিতে তাদের পরিসংখ্যান এবং এই প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। এর জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারের কাছে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সঠিক জনতাত্ত্বিক তথ্য নেই।

তবে এই প্রবণতার কারণ হিসেবে ২০১৭ সালের একটি গবেষণার (সুলাইমান এট আল) প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ, সামাজিক পরিবেশ, যৌন অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় চর্চার অভাবের কারণেই মানুষ এই পথে পা বাড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় সমকামিতা এখনও আইনিভাবে নিষিদ্ধ।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সমকামিতা সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া এগোয়নি। পরিবর্তে, তাঁদের কাউন্সেলিং এবং বিভিন্ন ‘রিহ্যাবিলিটেশন’ বা সংশোধনমূলক প্রোগ্রামে পাঠানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যক্তিদের ‘ইতিবাচক পথে’ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কোর্সেরও আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রীর এই অদ্ভুত যুক্তিতে মজেছে নেটপাড়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী বিদ্রুপ করে লিখেছেন, “এই যুক্তি মানলে তো আমার অফিসের সবারই এতদিনে সমকামী হয়ে যাওয়ার কথা!” অন্য এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, “সংসদ সদস্যরা কি তবে মোটেও কাজ করেন না? কারণ তাঁদের মধ্যে তো এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।”

এলজিবিটি অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিস্টার্স’-এর প্রতিনিধি তিলাগা সুলতিরেহ জানান, “এই ধরনের ভুল তথ্য সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা গেঁথে দেয় যে সমকামিতা কোনো ত্রুটি যা সংশোধন করা সম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক বিষয়। মন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে এই ভুল তথ্য প্রত্যাহার করা।”

Related Articles