আর ভিনরাজ্যে খাটতে হবে না বাংলার কারিগরদের! পিএম বিশ্বকর্মা স্কিম চালু হতেই গর্জালেন শুভেন্দু
২০২৭ সালে ব্রিগেডে ৫ লক্ষ বিশ্বকর্মার সমাবেশ! তৃণমূলের 'বঞ্চনা'র জবাব দিয়ে বিশাল ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
Truth of Bengal: বিগত শাসকদলের আমলে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত কিংবা আবাসন যোজনার মতোই বন্ধ ছিল ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’র কাজ। তবে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতার আসার পরই সেই অচলাবস্থা ভেঙেছে। অবশেষে ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে রাজ্যের লাখ লাখ প্রান্তিক কারিগর ও শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটতে চলেছে। বিশ্বকর্মা পুজোর আগের সন্ধ্যায় কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়াম থেকে রাজ্যের বিশ্বকর্মাদের জন্য ঐতিহাসিক এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লোহা শিল্পের কর্মী, স্বর্ণশিল্পী, কাঠমিস্ত্রি, মূর্তিকার থেকে শুরু করে দর্জি, ক্ষৌরকার ও মালাকার, সবাই এবার এই প্রকল্পের সরাসরি সুফল পাবেন।
প্রকল্পের শুভ সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “স্বর্ণশিল্পী, চর্মশিল্পী, কামার, কুমোর, রাজমিস্ত্রি, দর্জি, মৃৎশিল্পী, বোট ও জাল তৈরির কারিগররা এবার থেকে এই স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি নরসুন্দর, মালাকার, ঝিনুক শিল্পী, মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও কাঠ-পাটের পুতুল তৈরিতে সিদ্ধহস্ত মানুষেরাও সরকারি সুবিধা পাবেন।” রাজ্যের হস্তশিল্পের উচ্চ প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, “হাতের কাজ করার জন্য বিশেষ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না, লাগে অপরিসীম দক্ষতা। বিগত দিনে তৃণমূল সরকার ইচ্ছে করে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে কেন্দ্র সরকারের এই স্কিম আটকে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার বাংলার হস্তশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
চলতি বছরের মে মাস থেকেই রাজ্যে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা চালুর প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছিল। গত ১৪ মে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির পর জেলায় জেলায় নজরদারি ও রূপায়ণ কমিটি গঠন করে উপভোক্তা বাছাই ও নথিভুক্তিকরণের কাজ দ্রুত এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই কারিগরদের আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর্বও চালু হয়ে গিয়েছে।
এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্য ও কেন্দ্রের উদ্যোগে দক্ষ কারিগরদের নিখরচায় প্রশিক্ষণ, দৈনিক ভাতা ও উন্নতমানের কিট সরবরাহ করা হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, কারিগররা ব্যাংক থেকে অত্যন্ত কম সুদে ব্যবসায়িক ঋণ পাবেন, যার মূল গ্যারান্টার হবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার পরিযায়ী বিশ্বকর্মাদের নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক দেন। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “আগামী ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অন্তত ৫ লক্ষ পিএম বিশ্বকর্মা উপভোক্তাকে নিয়ে মহতী বিশ্বকর্মা দিবস উদযাপিত হবে।”






