আন্তর্জাতিক

রাষ্ট্রসংঘের নিন্দাকে উপেক্ষা করে ফের গাজায় হামলা, ইজরায়েলের আঘাতে হতাহত বহু

ত্রাণ শিবির ও হাসপাতালের মতো জায়গাতেও নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করেছে ইজরায়েলি বাহিনী।

Truth Of Bengal: রাষ্ট্রসংঘের কাছে তীব্র সমালোচিত হওয়ার পরেও গাজায় ফের বড় ধরনের হামলা চালাল ইজরায়েলি সেনা। গত ২৪ ঘণ্টায় ইজরায়েলের আক্রমণে অন্তত ৯৮ জন প্যালেস্টিনীয় নিহত এবং ৩৮৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আশঙ্কা, বহু দেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি প্যালেস্টিনীয় নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের সদ্য প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। শুধু তাই নয়, ত্রাণ শিবির ও হাসপাতালের মতো জায়গাতেও নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করেছে ইজরায়েলি বাহিনী।

রাষ্ট্রসংঘের তদন্ত কমিটি ইজরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যার পাঁচটি মানদণ্ড রয়েছে, যার মধ্যে চারটির সঙ্গে গাজার পরিস্থিতি মিলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রিপোর্ট। সেগুলি হল—নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা করা, তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা,গোষ্ঠীটিকে নিশ্চিহ্ন করতে পরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা, জন্ম রোধে ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ নেওয়া। সাম্প্রতিক অতীতে কোনও হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এই রিপোর্ট প্রকাশের পর ইজরায়েলের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে ইজরায়েল রিপোর্টটি সরাসরি বর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার পাল্টা মন্তব্য করেছে, রাষ্ট্রসংঘ কি হামাসের মুখপাত্র হয়ে উঠেছে?

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম হামাস ইজরায়েলে রকেট হামলা চালায় এবং বেশ কিছু নাগরিককে বন্দি করে। তাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। তার পর থেকেই ইজরায়েলি বাহিনী গাজাকে নিশ্চিহ্ন করার শপথ নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে মাত্র চার মাসে ১২ হাজার ৫১১ জন নিহত এবং ৫৩ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। বহু হাসপাতাল ধ্বংস হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে প্রতিদিন নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

Related Articles