আন্তর্জাতিক

চিনা মোবাইল অ্যাপের বিপদ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি FBI-এর

একবার অনুমতি পেয়ে গেলে, অ্যাপটি বন্ধ থাকলেও বা ব্যবহার না করলেও সেটি ডিভাইসের ভেতর থেকে অনবরত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

Truth Of Bengal: সম্প্রতি আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করেছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। সংস্থাটি বিশেষভাবে বিদেশি, বিশেষ করে চিনে তৈরি বা চিন-নিয়ন্ত্রিত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে। এফবিআই-এর মতে, চিনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, সে দেশের যেকোনো সংস্থা বা নাগরিক সরকারকে গোয়েন্দা কার্যকলাপে সহায়তা করতে বাধ্য। এর ফলে, চিনা সার্ভারে সংরক্ষিত ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা যে কোনো সময় সে দেশের সরকারের হাতে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এফবিআই আরও জানিয়েছে যে, এই ধরনের অ্যাপগুলো ইনস্টল করার সময় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডিভাইসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাক্সেস চেয়ে নেয়। একবার অনুমতি পেয়ে গেলে, অ্যাপটি বন্ধ থাকলেও বা ব্যবহার না করলেও সেটি ডিভাইসের ভেতর থেকে অনবরত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট লিস্ট বা অ্যাড্রেস বুক হাতিয়ে নেয়, যার ফলে ওই ব্যবহারকারীর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ইমেল আইডি, ফোন নম্বর এবং ঠিকানাও বিপদের মুখে পড়ে। অনেক অ্যাপের গোপনীয়তা নীতিতে (Privacy Policy) সরাসরি উল্লেখ থাকে যে সংগৃহীত তথ্য চিনা সার্ভারে জমা রাখা হবে, যা ডেটা চুরির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তথ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি ম্যালওয়্যারের বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করেছে এফবিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক অ্যাপের ভেতরে ক্ষতিকারক কোড বা এমন ম্যালওয়্যার লুকানো থাকে যা স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকারদের জন্য ‘ব্যাকডোর’ বা গোপন পথ তৈরি করে দেয়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ফোনে আরও মারাত্মক সব ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে এফবিআই-এর পরামর্শ হলো— সর্বদা অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে ভেরিফায়েড অ্যাপ ডাউনলোড করা, নিয়মিত ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করা এবং অ্যাপ সেটিংস থেকে অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বা অনুমতি বন্ধ রাখা। সাইবার সুরক্ষা বজায় রাখতে মাঝেমধ্যেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার কথাও বলেছে এই সংস্থা।