ইজরায়েলে নিষিদ্ধ মারণাস্ত্রের ছায়া, ইরানের ‘ক্লাস্টার বোমা’ নিয়ে উত্তাল আন্তর্জাতিক মহল
এই পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিনারে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Truth Of Bengal: ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবার চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) দাবি, তেহরান তাদের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বোমা’ (Cluster Bomb) ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তেল আভিভকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে এই ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ আসতেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইজরায়েলি সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড মাটি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার উচ্চতায় এসে বিস্ফোরিত হয়। সেখান থেকে অন্তত ২০টি ছোট আকারের বোমা (Submunitions) বিচ্ছিন্ন হয়ে তেল আভিভ ও সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই বিশেষ ধরনের আক্রমণ ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে রাশিয়া বা চিনের পরোক্ষ সাহায্য রয়েছে কি না – তা নিয়ে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বোমা কোনো সাধারণ বিস্ফোরক নয়। এটি একটি বিশাল খোলসের ভেতরে কয়েক ডজন থেকে কয়েকশো ছোট বোমা বহন করে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় গিয়ে এটি ফেটে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মারণাস্ত্র ছড়িয়ে দেয়। এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ‘ডাড রেট’ (Dud Rate); অর্থাৎ, অনেক সময় সবকটি বোমা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরিত হয় না। ল্যান্ডমাইন বা মাইনের মতো এগুলো বছরের পর বছর মাটিতে পড়ে থাকতে পারে এবং সাধারণ মানুষের সামান্য স্পর্শে ফেটে গিয়ে প্রাণহানি ঘটাতে পারে।
২০০৮ সালে ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস’-এর মাধ্যমে বিশ্বের ১১১টি দেশ এই অস্ত্রের ব্যবহার ও মজুত নিষিদ্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো – আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মতো সামরিক পরাশক্তিগুলো আজও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আমেরিকা এই একই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও ইজরায়েল যদি একে অপরের ওপর এভাবে নিষিদ্ধ মারণাস্ত্র প্রয়োগ শুরু করে, তবে তা কেবল পশ্চিম এশিয়াই নয়, সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। বৃহত্তর শক্তিগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিনারে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






