আন্তর্জাতিক

৩৭ বছর পর জর্ডানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী! আম্মানে মোদি-রাজা আবদুল্লাহর বৈঠকে খুলল নতুন দিগন্ত

সোমবার তিনি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

Truth Of Bengal: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জর্ডান সফরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সোমবার তিনি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সহ একাধিক বিষয় আলোচনায় আসে। তবে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল সন্ত্রাসবাদ দমন ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সহযোগিতা।

সাক্ষাতের শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তিগুলো ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর তিন দেশের সফরের প্রথম ধাপ। জর্ডানের পর তাঁর সফর হবে ইথিওপিয়া ও ওমানে। উল্লেখযোগ্য, গত ৩৭ বছরে প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরে জর্ডান এলেন। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালে ভারত-জর্ডান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, যা এই সফরের তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে আম্মানের বিমানবন্দরে জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে হুসেইনিয়া প্রাসাদে রাজা আবদুল্লাহর সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, কৃষি, সার, পর্যটন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মোদি বলেন, ভারত ও জর্ডান বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আগ্রহী। ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, সার শিল্প ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা হবে। বর্তমানে ভারত জর্ডানের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাক্ষরিত পাঁচটি সমঝোতা চুক্তির মধ্যে রয়েছে : 

  • নবায়নযোগ্য শক্তিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা

  • জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা

  • পেট্রা ও এলোরার মধ্যে টুইনিং চুক্তি

  • ২০২৫-২০২৯ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি

  • বৃহৎ জনসংখ্যার জন্য ডিজিটাল সমাধান ভাগাভাগি করার উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী মোদি নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেন। এছাড়া, তিনি রাজা আবদুল্লাহর সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনের ভূমিকার প্রশংসা করেন। গাজা পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জর্ডানের সক্রিয় ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। মোদী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব শান্তির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোটের উপর, এই সফর ভারতের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে জর্ডানের সঙ্গে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।