বাল্যবিবাহ রোধে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেল অসমের সাফল্য
ভারতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রথম বড় মাপের ও ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছিল অসম।
Truth of Bengal: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৭ নভেম্বর তারিখটিকে ‘বাল্যবিবাহ, কম বয়সে বিয়ে ও জোরপূর্বক বিবাহ দূরীকরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর গৃহীত এই প্রস্তাব বিশ্বজুড়ে এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে ও কড়া পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার যে লাগাতার আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ তুলে নিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হল।
ভারতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রথম বড় মাপের ও ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছিল অসম। বিগত ৫ বছরে রাজ্যে ১২,১৯৬টি বাল্যবিবাহের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১১,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অসম সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপের ফলস্বরূপ একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০০টি জেলার ১,১৩২টি গ্রামে বাল্যবিবাহের ঘটনা ৮১ শতাংশ কমেছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে ৩,২২৫টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল, ২০২৩-২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২৭টিতে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন এবং পকসো আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি নারীশিক্ষার প্রসারে জোর দিয়েছে অসম। রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজুত মইনা’ প্রকল্প, যার অধীনে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তাদের অকালে বিয়ে না হয়ে পড়াশোনা জারি থাকে। মুখ্যমন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যে অসমকে পুরোপুরি বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
পাশাপাশি এনডিটিভি এবং ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন’ ২০২৩ সাল থেকে ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত’ অভিযান চালিয়ে আসছে। রাজ্য সরকারের এই দমনমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা ও জাতিসংঘের এই নতুন আন্তর্জাতিক দিবস বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্থানীয় লড়াইকে এক বৈশ্বিক মাত্রা প্রদান করল।






