মহালয়ায় ইডেনে মহা আয়োজন, দেবী দুর্গার আঁকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
শুধু ইডেনের পুজোর সূচনাই নয়, ওই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১০ হাজার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
Truth of Bengal: শারদ আকাশে ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দেবী দুর্গার মুখ। চারদিকে ধ্বনিত হবে মাতৃবন্দনা। আর সেই আবহেই মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন উদ্যানে দেবী দুর্গার চোখ আঁকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চক্ষুদানের এই বিশেষ পর্বের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে এবারের দুর্গাপুজোর। গোটা অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিশাল পরিকল্পনা।
ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে থাকছে জমকালো রোড শো। আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে রেড রোড। সেখানে বাংলার ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের নৃত্য ও লোকসংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। বাংলার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইডেনে প্রবেশ করার সময় এক হাজার মহিলা একসঙ্গে উলুধ্বনি দেবেন। একই সঙ্গে বেজে উঠবে প্রায় ১০ হাজার ঢাক। আয়োজকদের আশা, এত বিপুল সংখ্যক ঢাক একসঙ্গে বাজানোর এই আয়োজন বিশ্বরেকর্ডের নজিরও গড়তে পারে। স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় পুজোর গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনায় শেষ মুহূর্তে সামান্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও মূল ব্লু-প্রিন্ট প্রায় চূড়ান্ত। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে এসপিজির হাতে।
শুধু ইডেনের পুজোর সূচনাই নয়, ওই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১০ হাজার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ভার্চুয়ালি সেই পুজোগুলির উদ্বোধন হবে বলে জানা গিয়েছে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘মা আসছে–উমা স্টোরি’ থিমে অত্যাধুনিক থ্রি-ডি প্রোজেকশন ম্যাপিং শো।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে থেকেই ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে বাংলার পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব লোকসংস্কৃতির ঝলক তুলে ধরা হবে।
দার্জিলিঙের তামাং সেলো, কালিম্পঙের লেপচা নাচ, জলপাইগুড়ি ও দুই দিনাজপুরের রাজবংশী লোকনৃত্যের পাশাপাশি থাকবে মালদহের গম্ভীরা। বীরভূমের বাউল গান, পূর্ব বর্ধমানের রাইবেশে, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি নাচ এবং নদিয়ার গৌড়ীয় বৈষ্ণব নৃত্যও জায়গা পাবে অনুষ্ঠানে।
এ ছাড়া বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার ছৌ নাচ, পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়ার গান, হুগলির রামপ্রসাদী, হাওড়ার লোকনাট্য এবং উত্তর ২৪ পরগনার বনবিবি পালা-সহ বিভিন্ন জেলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশন থাকবে। সব মিলিয়ে মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন যেন হয়ে উঠতে চলেছে বাংলার দুর্গাপুজো ও লোকসংস্কৃতির এক বিশাল মিলনমঞ্চ।






