কলকাতা

“শিকড়-সহ উপড়ে ফেলব!”, গেরুয়া অপমানের জবাব দিতে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর!

উলু-শঙ্খধ্বনিতে থমকে গেল গোলপার্ক থেকে যাদবপুর! সন্ন্যাসীদের নিয়ে পথে নামলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী

Truth of Bengal: বাংলায় সনাতন ধর্ম ও পবিত্র গেরুয়া পতাকার অসম্মান কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং যাদবপুরের বুক থেকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ কিংবা দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া বাহিনীর মূল উপড়ে ফেলা হবে বলে চরম শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিজেপি ও রাজ্য সনাতন সমাজ আয়োজিত মেগা ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র সমাপ্তি পর্বে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে এই হুঙ্কার দেন নবান্নের শীর্ষ কাণ্ডারী। দেশবিরোধী ও উগ্র চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানান, ঋষি অরবিন্দ ও স্বামী বিবেকানন্দের পবিত্র মাটিতে যে বা যারা গেরুয়া পতাকাকে অপমান করার দুঃসাহস দেখাবে, তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে শিকড়-সহ উপড়ে ফেলা হবে।

এদিন দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজিত ঐতিহাসিক এই দীর্ঘ মিছিলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ও সাধু-সন্তদের সঙ্গে নিয়ে হাঁটলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক পাশেই হাঁটতে দেখা যায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ, রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তাপস রায় এবং স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। পুরো এলাকা কার্যত গেরুয়া পতাকার সমুদ্রে পরিণত হয়।

যাদবপুরে মিছিল শেষে আয়োজিত সভায় তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “আমি আজ ঐতিহাসিক যাদবপুরের এই মাটিতে দাঁড়িয়ে শপথ নিচ্ছি, যেখানে সেন্ট্রাল অফ এক্সিলেন্স রয়েছে, যা ঋষি অরবিন্দের সাধনক্ষেত্র, সেখানে দাঁড়িয়ে তথাকথিত ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ গ্যাং, কিষাণজিকে রেড স্যালুট জানানো লোক এবং যারা দেওয়ালে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ লিখেছে, তাদের শিকড়-সহ উপড়ে ফেলব।”

বাম জমানা ও পরবর্তী রাজ্য সরকারের পতন ঘটানোর উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “আপনারা জানেন, ২০১১ সালে পণ করেছিলাম এই রাজ্য থেকে চরমপন্থী বামদের সরাব। এরপর প্রদেয় প্রতিশ্রুতি মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ছাব্বিশের নির্বাচনে জামাতি চালিত সরকারকে উপড়ে ফেলে আপনারা বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় এনেছেন। আজ আবার আপনাদের সঙ্গে নিয়ে শপথ নিচ্ছি, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্যদেব ও স্বামী প্রণবানন্দের এই পূণ্যভূমিতে কেবল গেরুয়াই জয়যুক্ত হবে!” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ও স্পষ্ট বক্তব্যের পর দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Related Articles