বিনোদন

সুনিধিকে ‘আঙুর ফল টক’ বললেন নেহা! কী নিয়ে দুই গায়িকার ঠান্ডা লড়াই?

রিয়ালিটি শো নিয়েই কার্যত দুই গায়িকার মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ

Truth of Bengal: বলিউডের দুই জনপ্রিয় গায়িকা সুনিধি চৌহান ও নেহা কক্কর। দীর্ঘদিন ধরেই দু’জনেরই আলাদা অনুরাগী মহল রয়েছে। নয়ের দশকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সঙ্গীতজগতে পা রাখা সুনিধি বহু বছর ধরে বলিউডের প্রথম সারির কণ্ঠশিল্পীদের অন্যতম। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে নিজের গানের পাশাপাশি রিয়ালিটি শোয়ের বিচারক হিসেবেও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন নেহা। এবার সেই রিয়ালিটি শো নিয়েই কার্যত দুই গায়িকার মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। বিভিন্ন গানের রিয়ালিটি শোয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত নেহা কক্কর। একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে বিচারকের আসনে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রিয়ালিটি শোয়ে প্রতিযোগীদের গল্প শুনে তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া কিংবা নানা নাটকীয় মুহূর্তও বহুবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়েছে। সমালোচকেরা কখনও কখনও তাঁকে ‘হাইভোল্টেজ ড্রামা ক্যুইন’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

এই আবহেই সম্প্রতি একটি পডকাস্টে গানের রিয়ালিটি শোগুলির বর্তমান ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুনিধি চৌহান। কারও নাম না করেই তাঁর দাবি, এখনকার বহু রিয়ালিটি শো আগেভাগেই পরিকল্পিত এবং অতিরিক্ত নাটকীয়তায় ভরা। প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ও আবেগকে টিআরপির জন্য ব্যবহার করা হয় বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। সুনিধির বক্তব্য, নির্মাতাদের তরফে কখনও নির্দিষ্ট প্রতিযোগীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, বর্তমান রিয়ালিটি শোগুলিতে প্রতিযোগী থেকে বিচারক—অনেকের পারফরম্যান্সেই অটোটিউনের ব্যবহার হয় বলে দাবি করেন গায়িকা। এই কারণেই তিনি এখন আর রিয়ালিটি শোয়ের বিচারকের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলেও জানান। সুনিধির এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন। এর মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে রিয়ালিটি শো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন নেহা কক্কর। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এই ধরনের অনুষ্ঠান কি সত্যিই আগেভাগে সাজানো থাকে?

নেহা সেই দাবি মানতে নারাজ। তাঁর মতে, প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম, আবেগ কিংবা জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি চিত্রনাট্য অনুযায়ী তৈরি করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, অনেক শিল্পীই ছোট শহর বা সাধারণ পরিবার থেকে বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে উঠে আসেন। ফলে প্রতিযোগীদের জীবনের গল্প শুনে বিচারকের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। নেহার কথায়, কারও জীবনসংগ্রাম শুনে তাঁর চোখে জল এলে সেটি স্বাভাবিক অনুভূতি। সেটাকে শুধুমাত্র ‘নাটক’ বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। এরপরই আসে সবচেয়ে চর্চিত মন্তব্য। রিয়ালিটি শোয়ের টিআরপি প্রসঙ্গে নেহা দাবি করেন, তিনি যতদিন বিচারকের আসনে ছিলেন, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলির টিআরপি যথেষ্ট ভালো ছিল। তারপরই তাঁর কটাক্ষ, “আসলে আঙুর ফল না পেলে টক-ই লাগে।” নেহা সরাসরি সুনিধির নাম না নিলেও তাঁর মন্তব্য যে সুনিধির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পালটা হিসেবেই করা হয়েছে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা। ফলে রিয়ালিটি শো কতটা বাস্তব আর কতটা সাজানো—সেই পুরনো বিতর্কের মাঝেই এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে সুনিধি-নেহার এই পরোক্ষ তরজা।