রাজ্যের খবর

“এতদিনে স্বাধীনতা পেলাম!”, শুভেন্দুর ঘরে গিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি তৃণমূল বিধায়কদের

মালদহ-মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়করা কি তবে এবার পদ্ম শিবিরের পথে?

Truth of Bengal: বুধবার ছিল উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের বিধায়কদের শপথ গ্রহণের দিন। কিন্তু বিধানসভার অন্দরে শপথের থেকেও বেশি নজর কাড়ল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরের দৃশ্য। প্রথা ভেঙে তৃণমূলের একাধিক জয়ী বিধায়ক এদিন সটান ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে। অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি চলে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক। আর সেই বৈঠক থেকেই বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান?

সূত্রের খবর, হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ, সুতির ইমানি বিশ্বাস এবং রঘুনাথগঞ্জের আখরুজ্জামানের মতো তৃণমূল হেভিওয়েটরা দল বেঁধে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আমাকে বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা পেলাম।” শুভেন্দুর দাবি, গত কয়েক বছর ধরে এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়েছিল এই জনপ্রতিনিধিদের। আজ এক মুক্ত বাতাবরণে তাঁরা কাজ করার সুযোগ দেখছেন।

স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি

তৃণমূল বিধায়কদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং তাঁদের ‘স্বাধীনতা’ পাওয়ার দাবি ঘিরে যখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ কাটিয়ে এখন এক মুক্ত বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সরকারি কাজে কোনো দলবাজি নয়, স্বচ্ছতাই হবে এই নতুন প্রশাসনের মূল ভিত্তি।”

তৃণমূলে কি বড়সড় বিদ্রোহ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংগঠন বরাবরই প্রভাবশালী নেতাদের ওপর নির্ভরশীল। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁদের এই ‘বিদ্রোহী’ মেজাজ এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভাল চোখে দেখছে না ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। ডিসেম্বরে পুরভোটের আগে কি মুর্শিদাবাদের একঝাঁক বিধায়ক শিবির বদল করতে পারেন? শুভেন্দুর ঘরে এই ‘সৌজন্য’ সাক্ষাতের পর সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বিরোধী বিধায়কদের এই ভিড় রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles