তপসিয়া অগ্নিকাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ! সাসপেন্ড প্রগতি ময়দান দমকল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক
১ মাসের মধ্যে চাই তদন্তের রিপোর্ট! প্রগতি ময়দান দমকল কেন্দ্রের আধিকারিককে সাসপেন্ড করল রাজ্য
Truth of Bengal: তপসিয়ার অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দফতরের ভেতরেই শুদ্ধিকরণ শুরু করল রাজ্য সরকার। কর্তব্যে গাফিলতি এবং অগ্নি-নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতার অভিযোগে প্রগতি ময়দান দমকল কেন্দ্রের স্টেশন অফিসার তথা ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গৌতম দাসকে বুধবার সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়েছে। রাজ্য দমকল এবং জরুরি পরিষেবার ডিরেক্টর জেনারেল (DG)-র পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
গাফিলতির অভিযোগ ও নবান্নের রুদ্রমূর্তি
দমকল দফতরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রগতি ময়দান দমকল কেন্দ্রের অধীনে থাকা এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব ছিল। বিশেষ করে বেআইনি কারখানা বা দাহ্য পদার্থের মজুতের ওপর যে ধরণের অগ্নি-নিরাপত্তা নিরীক্ষণ (Safety Audit) করা প্রয়োজন ছিল, তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন গৌতম দাস। আরজি কর থেকে তিলজলা, একের পর এক দুর্ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছিলেন, গৌতম দাসের সাসপেনশন সেই বার্তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হেডকোয়ার্টারে নজরবন্দি আধিকারিক
সাসপেন্ড থাকা অবস্থায় গৌতম দাসকে দমকলের সদর দফতর বা হেডকোয়ার্টারেই উপস্থিত থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি ওই চত্বর ছেড়ে বেরোতে পারবেন না। আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দমকল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আধিকারিক মহলে চাঞ্চল্য
তপসিয়ার ঘিঞ্জি এলাকায় কীভাবে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে এবং কেন সেখানে প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি টুলস ছিল না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও দমকল। তবে নিজের দফতরের খোদ স্টেশন অফিসারকে সাসপেন্ড করার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বড় কর্তাদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ নিচুতলার কর্মীদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা। এলাকায় কোনও বেআইনি কারবার বা অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি থাকলে তার দায়ভার এখন থেকে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককেই নিতে হবে।






