প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন বস্তি উচ্ছেদের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের, তবে শর্ত একটাই!
ওই বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত
Truth of Bengal: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন রেস কোর্স রোড এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের অনুমতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। তবে উচ্ছেদের পাশাপাশি ওই বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজধানী থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সবদা ঘেবরা নামক একটি পুনর্বাসন কলোনিতে তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আবাসন দেওয়ার পাশাপাশি সবরকম প্রাথমিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কৌরব। বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, বর্তমানে যে স্থানে ওই বস্তিগুলি রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দারা মূলত ‘অননুমোদিত দখলদার’। তাই তাঁদের এলাকা খালি করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, পুনর্বাসনের এই প্রক্রিয়া চলাকালীন যেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ন্যূনতম বিঘ্ন ঘটে, সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের নেওয়া উচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তকে আদালত বৈধ বলে গণ্য করেছে এবং জানিয়েছে যে, প্রশাসনের এই ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
এর আগে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট বস্তি এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার একদম পাশেই অবস্থিত। বিশ্বজুড়ে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির নিরিখে এই এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত। তাই প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো জোরদার করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই উচ্ছেদ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাই রাম ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প এবং ডিআইডি ক্যাম্পের প্রায় ৭০০ বাসিন্দাকে সবদা ঘেবরায় পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ১৯২ জন ইতিমধ্যে দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের দেওয়া অ্যালটমেন্ট লেটার গ্রহণ করেছেন এবং ১৩৬ জন ফ্ল্যাটের দখল নিয়েছেন। ১৮৪ জন বাসিন্দার যোগ্যতা নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তাও মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।
বস্তিবাসীদের পক্ষ থেকে রেস কোর্স রোড এলাকা থেকে উচ্ছেদের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে একাধিক আবেদন করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল, আবাসনের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বাসন সাধারণত একই স্থানে অথবা ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে হওয়া উচিত। ৪৫ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে তাঁদের কর্মসংস্থান ও জীবনধারণে সমস্যা হবে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়া সবদা ঘেবরা এলাকার পরিকাঠামো ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁরা। তবে সমকালীন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের মতে, প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থে উচ্ছেদের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।






