দেশ

লাল দুর্গে ধস, দাক্ষিণাত্যে ফিরছে হাত! কেরলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে কংগ্রেস

পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই হয়তো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যম থেকে নিজের 'মুখ্যমন্ত্রী' পরিচয়টি সরিয়ে ফেলেছেন।

Truth of Bengal: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই দক্ষিণের এই রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ১৪০ আসন বিশিষ্ট কেরল বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৭১ হলেও, ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট ৮৫টি আসনে এগিয়ে গিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে। অন্যদিকে, জনমতের এই ঝোড়ো হাওয়ায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এলডিএফ। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই হয়তো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যম থেকে নিজের ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়টি সরিয়ে ফেলেছেন।

এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন? এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাঁর মতে, কেরলের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজেদের রায় দিয়েছেন। থারুর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে চলেছে। তাঁর মতে, বর্তমান শাসক জোটের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থাকলেও মানুষ অপশাসনের ধারাবাহিকতা ভাঙতেই কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটকে বেছে নিয়েছেন।

কেরলের এই নির্বাচনী ফলে উচ্ছ্বসিত শশী থারুর বলেন যে, প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো ফলাফল করেছে তাঁদের জোট। সাধারণ ভোটাররা যে রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন, তার প্রশংসা শোনা গেছে তাঁর গলায়। কংগ্রেসের পাশাপাশি এই জোটে রয়েছে মুসলিম লিগ, কেরল কংগ্রেস (জোসেফ), কেরল কংগ্রেস (জেকব) এবং আরএসপি-র মতো দলগুলি। ফলে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেস যে ফের ক্ষমতায় ফিরছে, তা প্রায় নিশ্চিত।

তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নাম এখনই নিতে চাননি এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের একটি নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আসার পর জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড। তবে থারুর আশ্বস্ত করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্য ও প্রতিভাবান নেতার অভাব তাঁদের দলে নেই। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, কার হাতে ওঠে কেরল প্রশাসনের রাশ।

Related Articles