১ লক্ষ ৬২ হাজার ছুঁল ১০ গ্রাম সোনার দাম, রুপো ৩ লক্ষ ছুঁইছুঁই
নতুন সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর আমদানিতে বেসিক কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
Truth of Bengal: কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরেই ভারতের বাজারে সোনা ও রুপোর দাম একলাফে ৬ শতাংশ বেড়ে আকাশছোঁয়া হয়েছে। বুধবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) লেনদেন শুরু হতেই এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং দ্রুত ৬ শতাংশের ‘আপার সার্কিট’ স্পর্শ করে। জুনের গোল্ড ফিউচার কন্ট্রাক্টে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৯,২০৬ টাকা বেড়ে ১,৬২,৬৪৮ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, রুপোর দামেও লেগেছে আগুন; প্রতি কেজি রুপোর দাম ১৬,৭৪৩ টাকা বেড়ে হয়েছে ২,৯৫,৮০৫ টাকা। মূলত বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করার লক্ষ্যেই কেন্দ্র সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর আমদানিতে বেসিক কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) যুক্ত হয়ে কার্যকর শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্কের এই বড় বৃদ্ধিতে ঘরোয়া বাজারে সোনা আমদানির খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে, যা সরাসরি খুচরো বাজারের দামে প্রভাব ফেলছে। তবে এত দাম বাড়া সত্ত্বেও দেশে সোনার বিনিয়োগের চাহিদা কমেনি; মার্চ ত্রৈমাসিকে ভারতে গোল্ড ইটিএফ (ETF)-এ বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় ১৮৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্রটি অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৯৫.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে উল্টে বাড়াতে পারে, এমন আশঙ্কায় লগ্নিকারীরা সতর্ক রয়েছেন। এছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মতো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। ঘরোয়া বাজারে দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আগামী দিনে গয়নার চাহিদায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






