দেশ

নিজের ‘চাড্ডা’ মন্তব্যে কুপোকাত, দিল্লিতে বিদ্রোহীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেজাজ হারালেন সায়নী

“আমি চাড্ডা নই যে চাড্ডি হয়ে যাব!”, দলবদল করে নিজেরই পুরনো ডায়লগে চরম ট্রোলড সায়নী ঘোষ

Truth of Bengal: রাজনীতিতে যে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু হয় না এবং মুখের কথা যে কত দ্রুত বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে উঠলেন যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে অহংকার করে যিনি বলেছিলেন, “আমার নাম সায়নী ঘোষ, আমি চাড্ডা নই যে চাড্ডি হয়ে যাব”, সেই সায়নীই তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লিখিয়ে রবিবার দিল্লির দরবারে হাজির। রবিবার সকালে দিল্লির বিমানবন্দরে পা রাখতেই এই পুরনো মন্তব্য এবং দলবিরোধী ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়ে সাংবাদিকদের ঝাঁঝালো প্রশ্নের মুখে পড়তে হল অভিনেত্রীকে। পরিস্থিতি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যে, প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কার্যত মেজাজ হারিয়ে মেঠো রাজনীতিকদের মতো মুখ ঘুরিয়ে পালিয়ে বাঁচলেন যাদবপুরের সাংসদ।

রাঘব চাড্ডাকে কটাক্ষ করে আজ নিজেই বিদ্রোহী!

ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। কয়েক মাস আগে দিল্লির আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে রাজকীয়ভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সেই দলবদলকে তীব্র কটাক্ষ করে সায়নী নিজেকে কট্টর মমতাপন্থী দাবি করতে গিয়ে ওই ‘চাড্ডি’ মন্তব্যটি করেছিলেন।

কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর ভোল বদলে ফেলেছেন সায়নী নিজেও। তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা যখন তাঁর এই অবস্থানকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই রবিবার দিল্লিতে পা রাখেন তিনি। বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা তাঁকে তাঁর সেই পুরনো মন্তব্য মনে করিয়ে দিতেই মেজাজ হারান সাংসদ। প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে সায়নী বলেন, “এ বিষয়ে আমি আপনাদের কোনও জবাব দেব না। আমি শুধুমাত্র আমার এলাকার ভোটারদের জবাবদিহি করব, আর কাউকে নয়।”

সোমবার লোকসভায় তৃণমূলের ‘কফিনে শেষ পেরেক’?

তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পর এবার লোকসভার সংসদীয় দলও কার্যত দলনেত্রীর হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে একযোগে দলের ২০ জন সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরি করে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীকাল সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দিতে চলেছেন এই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা।

স্পিকারের সঙ্গে সেই মেগা বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, আজ রবিবার দিল্লিতে তৃণমূলের এই বেসুরো সাংসদদের এক অতি গোপনীয় ও চূড়ান্ত রণকৌশল নির্ধারণের বৈঠক হতে চলেছে। সেই হাই-ভোল্টেজ মিটিংয়ে যোগ দিতেই কলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন সায়নী। রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের জুনে দাঁড়িয়ে সায়নীর এই ডিগবাজি বঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে যে সম্পূর্ণ খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।

Related Articles