কলকাতারাজ্যের খবর

ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ! এই চরম অস্বস্তি থেকে কবে মিলবে মুক্তি?

বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে

Truth of Bengal: একই রাজ্যে আবহাওয়ার দুই বিপরীত ছবি। একদিকে যখন বৃষ্টির জন্য হাহাকার চলছে দক্ষিণবঙ্গে, তখন অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে চলছে লাগাতার বর্ষণ। চাতক পাখির মতো মেঘের দিকে তাকিয়েও দক্ষিণবঙ্গবাসী চেনা স্বস্তি পাচ্ছেন না। আকাশে মেঘ জমলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মিলিয়ে মাঝেমধ্যে দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেও, বাস্তবে গরমের অস্বস্তি বিন্দুমাত্র কমেনি। উলটে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাস্তায় বেরোলেই ঘর্মাক্ত শান্তিতে জীবন ওষ্ঠাগত।

এই চরম অস্বস্তির মধ্যেই কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী ২০ জুন থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এখনই স্বস্তির ঢল নামবে এমনটা ভাবার কারণ নেই, কারণ ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা আপাতত দেখছেন না আবহাওয়াবিদেরা। মূলত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ ছিল মেঘলা ও অস্বস্তিকর। এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.২ ডিগ্রি বেশি। অন্যদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৪ ডিগ্রি ওপরে। আপাতত এই তাপমাত্রার বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।

আগামী সপ্তাহের দিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা বাড়লেও, তার আগে পর্যন্ত এই গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। মাঝেসাঝে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি হলেও তা তাপমাত্রার পারদ কমাতে পারবে না। উলটে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। ফলে বর্ষার মরশুম শুরু হয়ে গেলেও দক্ষিণবঙ্গের একাংশে কার্যত তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গ যখন চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছে, উত্তরবঙ্গের ছবিটা ঠিক তার উলটো। সেখানে ইতিমধ্যেই বর্ষার দাপট শুরু হয়ে গেছে। বুধবার আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদার কিছু অংশেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সব মিলিয়ে, এক বঙ্গে তীব্র দাহদাহ আর অন্য বঙ্গে জলমগ্ন পরিস্থিতি—এই দুই ভিন্ন রূপেই কাটছে বাংলার দিনকাল।

Related Articles