রাঘোপুরে তেজস্বী যাদবের জয়, কিন্তু আরজেডি কি ফিরে পাবে তার রাজনৈতিক দাপট?
২০১৫ থেকে এই কেন্দ্রে বিধায়ক তেজস্বী। ২০২০ সালেও তিনি ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
Truth Of Bengal: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মহাজোটের ভরাডুবির মধ্যেও নিজের শক্তঘাঁটি রাঘোপুর কেন্দ্র ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন আরজেডি সুপ্রিমো তেজস্বী যাদব। কখনও প্রায় ১৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। তবে তার দলের ফল এ বার ইতিহাসের অন্যতম খারাপ—২৪৩ আসনের মধ্যে ১৪৩টিতে লড়ে আরজেডির সম্ভাব্য প্রাপ্তি মাত্র ২৫টির মতো। রাঘোপুর আসনটি বহু বছর ধরেই লালু প্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবীর জয়ের কারণে আরজেডির শক্ত ঘাঁটি।
২০১৫ থেকে এই কেন্দ্রে বিধায়ক তেজস্বী। ২০২০ সালেও তিনি ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি টিকিট দেয় প্রভাবশালী যাদব নেতা সতীশ কুমার যাদবকে। যিনি ২০১০ সালে জেডিইউ প্রার্থী হয়ে রাবড়ি দেবীকে হারিয়েছিলেন। পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোরের জন সূর্য পার্টি এবং তেজস্বীর ভাই তেজপ্রতাপ যাদবের দলও রাঘোপুরে প্রার্থী দেয়। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝেও জয় ধরে রেখেছেন তেজস্বী।এনডিএ-র ঝড়ে এ বার কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়েছে মহাজোট। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৯৯টি আসনে ফল ঘোষণার মধ্যে এনডিএ ৮৫টি আসনে এগিয়ে বা জয়ী। কংগ্রেসের ফল আরও শোচনীয়। মহিলা ভোট, সুশাসন, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রভাব—নানা বিষয়েই চলছে বিশ্লেষণ।
২০১০ সালের পর এ বারই আরজেডি সবচেয়ে কম আসন পাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে তেজস্বীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও। দলের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ নতুন নয়। লালু-পরিবারে তেজস্বী বনাম তেজপ্রতাপ দ্বন্দ্ব, রোহিণীর প্রকাশ্য অসন্তোষ, শীর্ষ নেতাদের একের পর এক দলত্যাগ—এসবই দলীয় সংগঠনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। মহাজোটের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে তেজস্বীর ‘একগুঁয়েমি’ ও আসন বণ্টনে অনমনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ১১টি আসনে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ লড়াইয়ে মহাজোটের নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, যার সবক’টিতেই জিতেছে এনডিএ। গত লোকসভা ভোটেও একই সমস্যা হয়েছিল—যার জেরে পাপ্পু যাদব নির্দল হয়ে জিতে যান।নিজের আসন রাঘোপুরে চ্যালেঞ্জ সামলে জয়ী হলেও রাজ্য রাজনীতিতে তেজস্বীর ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। পরিবারগত দ্বন্দ্ব, দলের ভিতরে দূরত্ব, দুর্নীতির মামলা এবং জোট পরিচালনায় ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে বিহার রাজনীতিতে আরজেডির পুনরুত্থান যে সহজ হবে না, তা এবারের ফলেই স্পষ্ট।





