রাজ্যের খবর

বেআইনি নির্মাণ ও খাল ভরাটে বুলডোজার নামবে! বারাকপুরে চরম হুঁশিয়ারি পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপের

বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

Truth of Bengal: সরকারি জমি দখল, গাছ কেটে নির্মাণ কিংবা নদী-খাল ভরাট করে বাড়ি বা বহুতল তৈরি—এবার এমন বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, প্রথমে সংশ্লিষ্টদের নোটিস পাঠানো হবে। তারপরও নিয়ম না মানলে সরাসরি বুলডোজার নামবে। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের সূর্যপুরে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন মুখ ও বধির বালিকা বিদ্যালয় ও হোমে যান পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সেখানে গাছের চারা রোপণ করে রাজ্য সরকারের একদিনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। সেই অনুষ্ঠান থেকেই বেআইনি দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান।

দিলীপের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বহু জায়গায় সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। কোথাও নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে, কোথাও নালা-খাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও নদী বা জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে বলে দাবি তাঁর। মন্ত্রী বলেন, “যারা বেআইনিভাবে গাছ কাটছিল, সরকারি জমি দখল করছিল, নালা-খাল বন্ধ করে দিচ্ছিল, নদী ভরাট করে বিল্ডিং বানিয়ে দিচ্ছিল, তাদের সবাইকে নোটিস দেওয়া হবে। পরে বুলডোজার চলবে, কেউ বাঁচাতে পারবে না।” শুধু সরকারি জমি দখল কিংবা জলাশয় ভরাট নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া তৈরি নির্মাণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে যেসব বাড়ি বা বহুতলের প্রয়োজনীয় অনুমতি বা অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত লাইসেন্স নেই, সেগুলির ক্ষেত্রেও প্রশাসন পদক্ষেপ করবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি জায়গায় অভিযান শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অন্য ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী।

এদিন পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের প্রায় ৪০ হাজার গ্রামে মোট ৪০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে গড়ে ১০০টি করে গাছ লাগানো হবে। এর পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হস্টেল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশ্রম মিলিয়ে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানেও প্রায় ৪,৫০০টি গাছের চারা রোপণ করা হবে। তবে শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না সরকার। গাছের চারপাশ ঘেরা থেকে শুরু করে নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থাও থাকবে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, জি-রাম-জি প্রকল্পের শ্রমিকদের এই কাজে যুক্ত করা হবে। তাঁরা গাছ লাগানো, ঘের তৈরি এবং পরিচর্যার দায়িত্ব সামলাবেন। দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ কর্মদিবস সৃষ্টি হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব নিয়েও এদিন কথা বলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, হাতির চলাচল বেশি এমন গ্রামগুলির পাশে পাঁচ ফুট গভীর ও পাঁচ ফুট চওড়া ট্রেঞ্চ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে হাতি সহজে জনবসতিতে ঢুকতে পারবে না বলে মনে করছে প্রশাসন।

Related Articles