কার্লসেনের কাছে সময়ের চাপে হেরে গেলেন আনন্দ
আইকন বোর্ডের এই আকর্ষণীয় দ্বৈরথ শেষ হয় বিশপ ও পিওন নিয়ে তৈরি জটিল অবস্থায়।
Truth of Bengal: বিশ্ব দাবার দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন ম্যাগনাস কার্লসেন। গ্লোবাল চেস লিগের তৃতীয় দিনের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিলেন নরওয়ের বিশ্বসেরা দাবাড়ু কার্লসেন এবং ভারতের কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ। জমজমাট লড়াইয়ের শেষদিকে সময়ের চাপে পড়ে পরাজয় মেনে নিতে হয় আনন্দকে। তবে লড়াইটি একেবারেই একতরফা ছিল না।
আইকন বোর্ডের এই আকর্ষণীয় দ্বৈরথ শেষ হয় বিশপ ও পিওন নিয়ে তৈরি জটিল অবস্থায়। শেষ পর্যন্ত সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় আনন্দের পরাজয় নিশ্চিত হয়। কার্লসেনের এই জয় আলপাইন এপিএল পাইপার্সের জন্য অবশ্য যথেষ্ট ছিল না। দলের অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বিদিত গুজরাঠি ও কোনেরু হাম্পিও নিজেদের ম্যাচে হেরে যান। ফলে পিবিজি আলাস্কান নাইটসের কাছে ৭-৯ ব্যবধানে প্রথম হার স্বীকার করতে হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।
হাম্পিকে ৪৪ চালে হারিয়ে নাইটসের জয়ের ভিত গড়ে দেন নিনো বাতসিয়াশভিলি। এরপর ১৫ বছরের ইয়াগিজ কান এরদোগমুশের বিরুদ্ধে সময়ের চাপে পড়ে বিদিতও হেরে যান। ফলে কার্লসেন আনন্দকে হারালেও তাঁর দলকে জেতাতে পারেননি।
দিনের পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় চেক মুম্বা মাস্টার্স। গ্যাঙ্গেস গ্র্যান্ডমাস্টার্সকে ১২-৩ ব্যবধানে হারিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। কারিসা ইপ প্রথম জয় এনে দেন স্তাভরুলা সোলাকিদোর বিরুদ্ধে। এরপর এম প্রণেশ ৬৫ চালের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ লেভন অ্যারোনিয়ানের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় জয় নিশ্চিত করেন। বার্দিয়া দানেশভরও জয় পান, আর লিয়ন লুক মেন্ডোনসা সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় হেরে যান।
তবে দিনের সেরা প্রত্যাবর্তন ছিল পাইপার্সের। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে এফওয়াইইআরএস আমেরিকান গ্যাম্বিটসকে ১৫-৩ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। বিদিত ও হাম্পি নিজেদের তৃতীয় জয় তুলে নেন। বিদিত সময়ের চাপ সামলে দানিয়িল দুবভকে হারান, আর হাম্পি ২৯ চালে সারাহ খাদেমকে পরাজিত করেন। কিশোর দাবাড়ু ভোলোদার মুরজিনও জয় পান।
এক ম্যাচ হারলেও দিনের শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাইপার্স। আর আনন্দ-কার্লসেনের লড়াই প্রমাণ করে দিল, বয়স আলাদা হলেও দুই কিংবদন্তির বোর্ডের লড়াই এখনও সমান আকর্ষণীয়।


