দেশ

লিভ-ইন সঙ্গী খুনে ধৃত যুবককে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা! গুজরাত পুলিশের ভূমিকা ঘিরে বিতর্ক

ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক

Truth of Bengal: লিভ-ইন সঙ্গীকে খুনের অভিযোগে ধৃত এক যুবককে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করার অভিযোগ উঠল গুজরাত পুলিশের বিরুদ্ধে। ভবনগরের একটি বাসস্ট্যান্ডের সামনে ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তকে দড়ি বেঁধে হাঁটানো এবং মারধর করার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কেউ পুলিশের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন আইন হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে। অভিযুক্তের নাম ফয়জল ওরফে খাটকি লখানি। তাঁর বিরুদ্ধে কাজলবেন বরাইয়া নামে এক তরুণীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরে দু’জনে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।

ঘটনাটি গত ৩ সেপ্টেম্বরের। ভবনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে কাজলবেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে লখানির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার নীলমবাগ থানার পুলিশ ঘটনাটির পুনর্নির্মাণের জন্য লখানিকে ভবনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যায়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তকে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই সময় তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধরও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। একাংশের বক্তব্য, অভিযুক্ত যত গুরুতর অপরাধেই অভিযুক্ত হোন না কেন, শাস্তি দেওয়ার অধিকার আদালতের। পুলিশের প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আবার সমাজমাধ্যমের অন্য একাংশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থনও করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন কাজলবেনের বন্ধু রবিকে কেন্দ্র করে লখানির সঙ্গে বচসা বাধে। অভিযুক্তের সন্দেহ ছিল, রবির সঙ্গে কাজলবেনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও পুলিশের কাছে রবি দাবি করেছেন, মদ্যপানকে কেন্দ্র করেই বিবাদ শুরু হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, বচসার পর কাজলবেনকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন লখানি। তাঁর বুকে এবং পেটে লাথি ও ঘুষি মারা হয়। এমনকি মাথা পাথরে ঠুকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গুরুতর আঘাত নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কাজলবেনকে। পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও ডাকাতি ও মারধর-সহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে।