দেশ

বিহার ভোটে পিকে–র ভরাডুবি! রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

জেডিইউ যথেষ্ট আসন পেয়েছে এনডিএ সরকার গড়ছে, আর পিকের দল ২৪৩টির মধ্যে একটিও আসনে জিততে পারেনি।

Truth Of Bengal: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ভোটের আগে যেভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি তার একটিও মেলেনি। ফলে ভোটকুশলী হিসাবে একাধিক রাজ্যে সাফল্য পাওয়া পিকে–ই রাজনীতির ময়দানে এবার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছেন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশান্ত কিশোর দাবি করেছিলেন জেডিইউ ২৫টির বেশি আসন পাবে না। এনডিএ ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। নীতীশ কুমার আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না এবং তাঁর জন সুরাজ পার্টি ১৫০টির বেশি আসন পাবে।কিন্তু বাস্তবে সব হিসেব ওলটপালট। জেডিইউ যথেষ্ট আসন পেয়েছে এনডিএ সরকার গড়ছে, আর পিকের দল ২৪৩টির মধ্যে একটিও আসনে জিততে পারেনি।পাটনার কুম্ভরার মতো সবচেয়ে শক্তিশালী আসনেও জন সুরাজ দাঁড়াল তৃতীয় স্থানে।

প্রথম দফায় কয়েক আসনে এগিয়ে থাকলেও বেলা বাড়তেই জন সুরাজের ‘লিড’ শূন্যে নেমে আসে। বুথফেরত সমীক্ষার অনেকেই তাদের জন্য শূন্য আসনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ফলাফল সেই ভবিষ্যদ্বাণীই মেনে চলল।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলটির শোচনীয় ফলের জন্য বেশকিছু কারণ রয়েছে। যেমন- পিকে নিজে প্রার্থী না হওয়া, ফলে কর্মীদের উদ্দীপনা কমে যাওয়া। দুর্বল সংগঠন কাঠামো,অধিকাংশ প্রার্থী নতুন মুখ,বিহারের জাতপাতভিত্তিক ভোটের সমীকরণ বুঝতে ব্যর্থতা, সময়মতো প্রচারে জোর না দেওয়া, সামাজিক মাধ্যম নির্ভর প্রচার, যা বাস্তব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ।

প্রায় তিন বছর বিহারে পদযাত্রা করলেও সংগঠনের ভিত মজবুত করতে পেরেছিলেন কি না—সেই প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, বিহারের মতো জটিল রাজ্যে একটি দল দাঁড় করাতে যে সময় প্রয়োজন, তিন বছর তা নয়।লালুপ্রসাদ যাদব কিংবা নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক উত্থানের তুলনায় পিকের প্রস্তুতি ছিল অসম্পূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, জন সুরাজ পার্টি জিতুক বা হারুক দলটি অন্তত প্রচলিত দ্বিমেরু রাজনৈতিক লড়াইয়ে সামান্য হলেও প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু বিহারের সবচেয়ে বড় ভোটব্যাঙ্ক—ইবিসি বা অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণির ভোটারদের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়াই পিকের বড় ভুল।জাতির সমীকরণ ও তৃণমূল স্তরের সংগঠন তৈরি না করেই ‘কর্পোরেট ধাঁচে’ রাজনীতি করার চেষ্টা ফলে ফলাফল শূন্য। এক সময় আলোচনায় ছিল পিকে কি বিহারের ‘কেজরিওয়াল’ হতে পারেন? আপাতত সেই সম্ভাবনা বাস্তবে হয়েছে বদল। তবুও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন, নাকি ‘বিহার বদলাও’ অভিযান এখানেই থামবে এখন সেইদিকেই তাকিয়ে বিহারবাসী।

Related Articles