রাজ্যের খবর

নৈহাটির বড়মার প্রসাদ পেতে চান? জেনে নিন কুপন সংগ্রহের সময় ও ভোগ বিতরণের দিনক্ষণ

বড়মার মন্দিরে বসিয়ে ভোগ খাওয়ানোর রীতি অবশ্য নতুন নয়। আগেও এই ব্যবস্থা চালু ছিল

Truth of Bengal: নৈহাটির বড়মার মন্দিরে ভক্তদের জন্য ফের চালু হল বসিয়ে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা। সপ্তাহে তিন দিন মন্দির চত্বরে ভক্তদের বিনামূল্যে ভোগ পরিবেশন করবে মন্দির কমিটি। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে এই পরিষেবা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের চিকিৎসা পরিষেবাও। বড়মার মন্দিরে বসিয়ে ভোগ খাওয়ানোর রীতি অবশ্য নতুন নয়। আগেও এই ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে ইরান যুদ্ধের আবহে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে সেই পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ফের পুরনো নিয়মে ভক্তদের ভোগ খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি সপ্তাহের সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার ভোগ বিতরণ করা হবে। ভোগ পেতে কোনও অর্থ দিতে হবে না। তবে তার জন্য আগে কুপন সংগ্রহ করতে হবে। সেই কুপনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

কুপন বিলির ক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মন্দির চত্বর থেকে ভোগের কুপন সংগ্রহ করা যাবে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ জন ভক্তকে ভোগ খাওয়ানো হবে। কুপন পাওয়া ভক্তরা মন্দিরের নির্দিষ্ট জায়গায় বসে সেই ভোগ গ্রহণ করতে পারবেন। নতুন মন্দির কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২ সেপ্টেম্বর থেকেই ভোগ বিতরণের নতুন ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। আপাতত সপ্তাহে তিন দিন এই পরিষেবা চালু থাকবে। শুধু প্রসাদ বা ভোগ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বড়মা মন্দির কর্তৃপক্ষ। নতুন করে চালু হয়েছে ‘বড়মা নিঃশুল্ক চিকিৎসা কেন্দ্র’। প্রতিদিন বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মন্দিরে আসেন। তাঁদের মধ্যে কেউ আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য কোনও অর্থ দিতে হবে না বলেও জানিয়েছে কমিটি।

মন্দিরের মুখপাত্রের কথায়, দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই ভোগের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে মন্দিরের নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভক্তদের সুবিধা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভোগ বিতরণ, বিনামূল্যের চিকিৎসা থেকে অ্যাম্বুল্যান্স—সব মিলিয়ে বড়মার মন্দিরে দর্শনার্থীদের পরিষেবা আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে নতুন কমিটি।