রবি দুপুরে সিইএসসি ভবনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! পাশে থাকা ঝুপড়িতে ছড়াল আগুন, তীব্র যানজট বিটি রোডে!
বিটি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পানিহাটিতে ধোঁয়ায় ঢাকল আকাশ, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে আতঙ্কের পরিবেশ
Truth of Bengal: রবিবারের নিশ্চিন্ত দুপুরে আচমকাই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে। বিটি রোডের (BT Road) ওপর অবস্থিত একটি বহুতল আবাসন এবং সংলগ্ন সিইএসসি-র (CESC) ডিস্ট্রিবিউশন ভবনে লাগল বিধ্বংসী আগুন। দুপুর গড়াতেই নিচের তলা থেকে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে বহুতলটি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ার ঘন আস্তরণে ঢেকে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ৭টি ইঞ্জিন। জনবহুল এলাকায় আগুন ছড়ানোর আশঙ্কায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিইএসসির ওই বিতরণ কেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার হঠাৎ বিকট শব্দে ব্লাস্ট করে। তার পরেই বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন মারাত্মক রূপ ধারণ করে ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বহুতলটির ঠিক পেছনেই রয়েছে একটি ঘনবসতিপূর্ণ ঝুপড়ি এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাওয়ার তোড়ে আগুনের বেশ কিছু শিখা ইতিমধ্যেই কয়েকটি ঝুপড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর মেলেনি।
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। আগুন যাতে দ্রুত জনবসতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য জলের পাশাপাশি ফোম ব্যবহার করে চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। বিটি রোডের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সংযোগকারী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটায় স্বভাবতই স্তব্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। গাড়ি চলাচলের গতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভিড় সামলাতে পুলিশ কড়া হাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতার বেশ কয়েকটি হোটেল ও রেস্তরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের পাশাপাশি উপকণ্ঠের বহুতলগুলির অগ্নিনিৰ্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। পানিহাটির এই বহুতলে উপযুক্ত অগ্নিসুরক্ষা বিধি (Fire Safety Norms) মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এখন দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক লক্ষ্য হল দ্রুত শিখা পুরোপুরি নিভিয়ে এলাকাটিকে বিপদমুক্ত করা।






