রাজ্যের খবর

“দুর্গাপুজো না লিখলে নিজে হাতে স্টল ভাঙব!”, সিপিএমকে হুঁশিয়ারি মন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের

"জরুরি অবস্থার মতো স্বৈরাচার বাংলায়!", শুভেন্দু-বিরাজের চরম তোপের মুখে পাল্টা জবাব মহম্মদ সেলিমের

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর মণ্ডপ চত্বরে মার্কসীয় সাহিত্যের বইয়ের স্টলে ‘শারদোৎসব’-এর বদলে স্পষ্ট অক্ষরে ‘দুর্গাপুজো’ লেখার আর্জি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই হুঁশিয়ারিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এক নজিরবিহীন বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন করণদিঘির বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। শনিবার বামপন্থীদের সরাসরি নিশানা করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মণ্ডপের বাইরের স্টলে যদি ‘দুর্গাপুজো’ লেখা না থাকে, তবে তিনি নিজে গিয়ে কমিউনিস্টদের সেই বইয়ের স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবেন। দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই বঙ্গ রাজনীতির পারদ নামপ্রতীকের লড়াই পেরিয়ে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও আদর্শগত সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে।

করনদিঘির বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যাঁদের কাছে ধর্মের কোনও ভিত্তি বা মানে নেই, তাঁরা কেন ধর্মীয় উৎসবের মণ্ডপে স্টল দিতে আসবেন? কমিউনিস্টরা তো ধর্মকে ‘আফিম’ মনে করে, সুতরাং তাঁদের জন্য তো এই পুজো নয়। স্টলে যদি স্পষ্ট করে ‘দুর্গাপুজো’ লেখা না থাকে, তবে আমি নিজে গিয়ে সেই স্টল ভেঙে দেব।” বিজেপির এই ওপেন বুলডোজার হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি ঐতিহাসিক জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জরুরি অবস্থার সময় সঞ্জয় গান্ধী ঠিক করে দিতেন কিশোর কুমারের গান বাজবে কি না। আমরা এই স্বৈরাচারী মানসিকতা রুখে দাঁড়াব। এর পর রাজ্যে যদি আইনশৃঙ্খলা বজায় না থাকে, তবে তার পুরো দায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেই নিতে হবে।”

অন্যদিকে, শনিবার গণেশ পুজোর একাধিক উদ্বোধন মঞ্চ থেকেও বামপন্থীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “৩৪ বছর ধরে যারা দুর্গাপুজো শব্দটা লিখতে দেয়নি, শাস্ত্র, পঞ্জিকা ও মন্ত্রোচ্চারণ ভুলিয়ে দিয়েছিল, তারা মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমাকে আরতি করবে না। তারা লাল শালু টাঙিয়ে কার্ল মার্কস ও লেনিনের বই বিক্রি করে। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজী, ভারত সেবাশ্রম কিংবা হনুমান চালিশার কোনও বই পাবেন না।”

শুভেন্দুর এই ধর্মীয় ও সাহিত্যিক আক্রমণের পাল্টা জবাবে মুখ খুলেছেন সিপিএমের যুব নেতা শতরূপ ঘোষ। ইতিহাস মনে করিয়ে তিনি বলেন, “আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স ও লেনিনের আদর্শ ও বই পড়তে শিখিয়েছিলেন যিনি, তিনি আর কেউ নন, পরম পূজনীয় স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, প্রখ্যাত বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।” ফলত, উৎসবের মুখে বইয়ের স্টল নিয়ে রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে।

Related Articles