দেশ

উরির সেনা শিবিরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ, প্রাণ হারালেন দুই জওয়ান

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, উরির কমলকোট এলাকায় অবস্থিত একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়মিত আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম হস্তান্তরের কাজ চলছিল।

Truth of Bengal: জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলার উরি সেক্টরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই ভারতীয় সেনা জওয়ানের। মঙ্গলবার একটি সেনা শিবিরে রুটিন অস্ত্র হস্তান্তরের সময় দুর্ঘটনাবশত একটি হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হন তাঁরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দুই জওয়ানের।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, উরির কমলকোট এলাকায় অবস্থিত একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়মিত আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম হস্তান্তরের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই একটি হ্যান্ড গ্রেনেডে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে গুরুতর জখম হন দুই সেনাকর্মী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে ভারতীয় সেনার ৯২ বেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁদের। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মৃত দুই জওয়ানই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁদের পরিবার এবং সহকর্মীদের মধ্যে। কীভাবে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও জম্মু ও কাশ্মীরে এক সেনা আধিকারিকের মৃত্যু ঘিরে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। রাজৌরি জেলায় জঙ্গিদমন অভিযানের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান লেফটেন্যান্ট বীরেশ্বর গোস্বামী। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় পা পিছলে প্রায় ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজৌরি-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা। ‘অপারেশন শেরওয়ালি’ নামে পরিচিত এই অভিযানে জঙ্গলঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চলছে। গোয়েন্দা সূত্রে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিকে চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সেনাবাহিনীর অনুমান, জঙ্গিরা ক্রমাগত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করছে। উরির এই দুর্ঘটনা ফের একবার মনে করিয়ে দিল, সীমান্ত এলাকায় শুধু জঙ্গি হামলাই নয়, সামরিক দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনাও কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

 

Related Articles