বাড়িতে পা রাখতেই তীব্র বিক্ষোভ, পার্টি অফিসে আগুন! সিতাইয়ে সাংসদ জগদীশ বসুনিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা
তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেও মিলল না নিস্তার! সিতাইয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে বন্দি বিতর্কিত সাংসদ
Truth of Bengal: দলবদল ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর নিজ এলাকাতেই তীব্র গণরোষ ও রাজনৈতিক ক্ষোভের মুখোমুখি হলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। রবিবার সকালে উত্তরবঙ্গের সিতাইয়ে নিজের বাসভবনে পা রাখতেই তাঁর বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন ক্ষুব্ধ দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা। সাংসদের বাড়ির সামনে সুবিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করার পাশাপাশি অদূরে থাকা স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র সিতাই এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ উত্তপ্ত ও থমথমে পরিবেশ। খবর পেয়েই সাংসদের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং স্থানীয় পুলিশ এসে সাঁড়াশি বলয় তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, সিতাই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন সাংসদের স্ত্রী সঙ্গীতা রায়। তবে বঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকে সঙ্গীতা রায় স্পষ্টভাবেই ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দেন। এর আগে মাস দুয়েক আগে রাতের অন্ধকারে স্ত্রীকে নিয়ে এই সিতাইয়ের বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে কোচবিহারের ফ্ল্যাটে ফিরে যেতে হয়েছিল সাংসদ দম্পতিকে। দীর্ঘ দুই মাস পর রবিবার ফের নিজের ভিটায় ফেরেন জগদীশ বসুনিয়া, কিন্তু তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভের আঁচ যে এতটুকু কমেনি, রবিবারের রণক্ষেত্রই তার প্রমাণ।
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের গুরুতর অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভূত বেআইনি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন এই সাংসদ। সিতাই ও আশেপাশের এলাকায় রাইস মিল থেকে শুরু করে একাধিক লাভজনক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বেনামি সম্পত্তি গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর দাবি তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সেই সঙ্গে সাংসদের ঘন ঘন দলবদল ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চাঁচাছোলা তোপ দাগেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে একসময় ফরওয়ার্ড ব্লক, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস, সম্প্রতি এনসিপিআই-এর হাত ধরে বিজেপির কাছাকাছি যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। তবে কোনও অবস্থাতেই তাঁকে নতুন কোনও রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে দেওয়া হবে না বলে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিক্ষোভকারী জনতা। আপাতত যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাংসদের সমগ্র বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী।






