লক্ষ্মীপুজোয় ঘরের কোথায় আঁকবেন দেবীর পা? ভুল জায়গায় আঁকলেই হতে পারে বড় আর্থিক ক্ষতি
ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের কামনায় ঘরে ঘরে পূজিত হবেন মা লক্ষ্মী
Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর আনন্দ-উৎসব শেষ। চারদিকে এখন বিষাদের সুর। উমার বিদায়ের মনখারাপ কাটতে না কাটতেই বাঙালি ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের কামনায় ঘরে ঘরে পূজিত হবেন মা লক্ষ্মী। পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি বাড়ি সাজানো, ঠাকুরঘর পরিষ্কার করা এবং সুন্দর আলপনা দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। আর লক্ষ্মীপুজো মানেই বাড়ির মেঝেতে আঁকা দেবীর ছোট ছোট পায়ের ছাপ।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার মাধ্যমে দেবীকে ঘরে স্বাগত জানানো হয়। তবে কোথায় এই পায়ের ছাপ আঁকছেন, তা নিয়েও রয়েছে নানা ধর্মীয় ও লোকাচারগত ধারণা। বিশ্বাস করা হয়, বাড়ির নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকলে শুভ ফল পাওয়া যায়। আবার কিছু জায়গায় তা আঁড়ানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, লক্ষ্মীপুজোয় বাড়ির কোন কোন জায়গায় দেবীর পায়ের ছাপ আঁকবেন আর কোথায় আঁকবেন না।

বাড়ির যে ৩ জায়গায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকবেন না
১. সদর দরজার ঠিক বাইরে বা সামনে
লক্ষ্মীপুজোয় অনেকেই বাড়ির প্রবেশপথে দেবীর পায়ের ছাপ আঁকেন। তবে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পায়ের ছাপের দিক ও অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। লোকাচার অনুসারে, দেবীর পায়ের ছাপ এমনভাবে আঁকা উচিত, যাতে মনে হয় মা লক্ষ্মী ঘরের ভিতরে প্রবেশ করছেন। ঘর থেকে বাইরে চলে যাচ্ছেন, এমনভাবে পায়ের ছাপ আঁকাকে অনেকেই অশুভ মনে করেন। তাই প্রবেশপথে পায়ের ছাপ আঁকার আগে তার দিকটি খেয়াল রাখুন।
২. শৌচাগারের সামনে
বাস্তু ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শৌচাগারের সামনে দেবীর পায়ের ছাপ আঁকা এড়িয়ে চলা উচিত। লক্ষ্মীপুজোয় পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই বাড়ির এই অংশে পায়ের ছাপ না এঁকে পরিষ্কার ও পবিত্র বলে বিবেচিত স্থানে আলপনা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৩. সিঁড়ির উপরে বা চলাচলের পথে
বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা হয়। ফলে সেখানে আঁকা আলপনা বা পায়ের ছাপ সহজেই মুছে যেতে পারে কিংবা পায়ের তলায় পড়তে পারে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এমন জায়গায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ না আঁকাই ভালো। বরং বাড়ির পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি কোনও স্থানে আলপনা আঁকতে পারেন।

বাড়ির যে ৩ জায়গায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকতে পারেন
১. ঠাকুরঘর ও পুজোর স্থানের সামনে
লক্ষ্মীপুজোয় বাড়ির ঠাকুরঘর বা পুজোর সিংহাসনের সামনে আলপনা দিয়ে দেবীর পায়ের ছাপ আঁকার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে দেবীকে ভক্তিভরে আহ্বান জানানো হয়। পায়ের ছাপ আঁকার আগে জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
২. টাকা-পয়সা ও গয়না রাখার স্থানে
অনেক বাড়িতে টাকা-পয়সা, গয়না কিংবা মূল্যবান সামগ্রী রাখার আলমারি বা নির্দিষ্ট স্থানের সামনে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে সংসারে আর্থিক সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য বজায় থাকে। লক্ষ্মীপুজোর দিন এই স্থানটি পরিষ্কার করে আলপনা দিতে পারেন।

৩. চাল-ডাল ও খাদ্যশস্য রাখার জায়গায়
বাঙালি সংসারে অন্নের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বাড়িতে যেখানে চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য রাখা হয়, সেখানেও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতি রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সংসারে অন্নের অভাব দূর হওয়া এবং সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকার কামনা করা হয়।





