কলকাতা

শনিবারই প্রতিমা নিরঞ্জন, তবে বন্ধই থাকছে মণ্ডপ! SIT-এর নির্দেশ মেনে সিদ্ধান্ত

তদন্তের মধ্যে উঠে এসেছে মণ্ডপের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

Truth of Bengal: সপ্তমীর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল ভয়াবহ বিপর্যয়ে। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। মর্মান্তিক এই ঘটনার দায় কার? কোথায় ছিল ব্যবস্থাপনার গলদ? কীভাবে এমন বিপর্যয় ঘটল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে তদন্ত। ইতিমধ্যে দুটি পৃথক বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। আর তদন্তের স্বার্থেই এবার প্রতিমা নিরঞ্জনের পরেও অক্ষত রাখা হবে বিতর্কিত মণ্ডপ। দশমী পেরিয়ে গেলেও চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিটের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁর পর্যবেক্ষণের পর প্রতিমা নিরঞ্জনে সম্মতি মিললেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, তদন্তের প্রয়োজনে মণ্ডপের বর্তমান কাঠামো ও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার নিমতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুজো কমিটি। তবে এখনই খোলা হচ্ছে না চোরবাগানের বিতর্কিত মণ্ডপ।

তদন্তের মধ্যে উঠে এসেছে মণ্ডপের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে কিংবা ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকলে ১৩৪ টনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট হতে পারত। কিন্তু বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড়ে এসি ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে মণ্ডপের ভিতরে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। একসঙ্গে বহু মানুষ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মণ্ডপ পরিদর্শনের পর সিটের প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানান, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরনোর রাস্তা ছিল অত্যন্ত সরু। আলোও ছিল কম। দুর্ঘটনার সময় জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, পুলিশ যথাযথ কাজ করেছে বলেই আপাতত মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপে যেমন আলো ছিল, সেই আলোতেই তাঁরা গোটা এলাকা ঘুরে দেখেছেন। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করেছেন সিটের প্রধান।

শুধু মণ্ডপের পরিকাঠামোই নয়, বিভ্রান্তিকর ঘোষণার অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। সিটের প্রধান জানিয়েছেন, যে ঘোষণার জেরে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে, সেই ঘোষণাকারীকেও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মণ্ডপে মাইকে ঘোষণা করার দায়িত্বে থাকা দু’জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles