দেশ

পুরীর হোটেল বুকিংয়ে বড়সড় প্রতারণা! পুলিশের জালে পুনের মাস্টারমাইন্ড

পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এই তীর্থস্থানের একটি নামী হোটেলের ওয়েবসাইটের হুবহু নকল বা ক্লোন তৈরি করে কোটি টাকার প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল জালিয়াতরা।

Truth of Bengal: পুরীর হোটেল বুকিংয়ের আড়ালে বড়সড় সাইবার জালিয়াতির পর্দা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা। পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এই তীর্থস্থানের একটি নামী হোটেলের ওয়েবসাইটের হুবহু নকল বা ক্লোন তৈরি করে কোটি টাকার প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল জালিয়াতরা। এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে পুনের এক নামী ওয়েব ডেভেলপারকে মঙ্গলবার ভোররাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম হুজাইফা শাব্বির দারবার। ৪১ বছর বয়সী এই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের বিভ্রান্ত করতেন।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতারকরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পুরী হোটেলের বুকিং সংক্রান্ত একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল। সাধারণ মানুষ যখন অনলাইনে হোটেল খোঁজাখুঁজি করতেন, তখন সার্চ রেজাল্টে আসল ওয়েবসাইটের বদলে সামনে আসত এই নকল সাইটটি। সেখানে ক্লিক করলেই বুকিংয়ের টোপ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ফাঁদে পা দিয়ে ইতিমধ্যেই সারা দেশের অন্তত ৮৩ জন পর্যটক প্রায় ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০৩ টাকা খুইয়েছেন। দেবজ্যোতি মল্লিক নামের এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে হরিদেবপুর থানা ও লালবাজারের সাইবার সেল।

অভিযোগকারী দেবজ্যোতিবাবু জানিয়েছেন, বুকিংয়ের নাম করে প্রথমে তাঁর কাছ থেকে মাত্র ১ টাকা চাওয়া হয় বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য। এরপর হোটেলের ম্যানেজার সেজে প্রতারকরা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ঘরের ছবি পাঠাতে থাকে। ইউপিআই পেমেন্ট বারবার ব্যর্থ হচ্ছে এমন অজুহাত দিয়ে একাধিক দফায় তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো বুকিং কনফার্মেশন মেলেনি এবং টাকা পাওয়ার পরেই জালিয়াতরা নিজেদের ফোন নম্বর বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।

তদন্তকারীরা এই ঘটনার কিনারা করতে বি এন এস এস আইনের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন ডোমেন সার্ভিস প্রোভাইডার ও ব্যাঙ্ককে নোটিস পাঠান। সেখান থেকেই জানা যায় যে, এই ভুয়ো ওয়েবসাইটটি একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত ছিল। গুগল এবং সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর থেকে আইপি অ্যাড্রেস ও ইমেল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে শেষমেশ অভিযুক্ত হুজাইফা শাব্বিরের হদিশ মেলে। ধৃতকে জেরা করে এই চক্রের বাকি সদস্যদের এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

Related Articles