টেলিগ্রামে নাবালকদের ভিডিও বেচে আড়াই কোটি কামাল যুবক! পুলিশের জালে উত্তরপ্রদেশের হাইপ্রোফাইল ইঞ্জিনিয়ার
এই ধরনের বেআইনি অনলাইন কার্যকলাপের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবক ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকা উপার্জন করেছেন
Truth of Bengal: নাবালকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অবমাননাকর অশ্লীল কন্টেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলা থেকে এক পেশাদার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এনক্রিপ্টেড সোশ্যাল মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে একাধিক চ্যানেল খুলে তিনি এই অবৈধ চক্র চালাচ্ছিলেন। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ধরনের বেআইনি অনলাইন কার্যকলাপের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবক ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রয়াগরাজের বাসিন্দা ওই পেশাদার ইঞ্জিনিয়ার স্কুলপড়ুয়া ও নাবালকদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেল তৈরি করেছিলেন। সেই সমস্ত চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হতো। তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে প্রথমে বিভিন্ন কন্টেন্ট দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হতো এবং পরবর্তীতে ওই চ্যানেলগুলির সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পর ভিডিও দেখার জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হতো।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নাবালকদের মধ্যে এই ধরনের আপত্তিকর কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়ার খবর গোপন সূত্রে পুলিশের হাতে আসে। এরপরই হারদোই কোতোয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর রওশন সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। হারদোই পুলিশের সাইবার টিম তদন্তে নেমে প্রযুক্তির সাহায্যে সূত্র ধরে ওই ইঞ্জিনিয়ারের খোঁজ পায় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের অনুমান, এই অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বহু নাবালককে নিশানা করা হয়েছিল। বর্তমানে ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেট অ্যাকাউন্টগুলি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিপুল অঙ্কের এই অর্থ লেনদেনের উৎস ও গতিবিধি জানার চেষ্টাও চলছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যুক্ত তিনটি ভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা রয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলির সাবস্ক্রিপশন ফি এবং অন্যান্য বেআইনি অনলাইন কার্যকলাপ থেকেই এই বিপুল টাকা এসেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া ইলেকট্রনিক গ্যাজেটগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে ধৃতের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং শিশু সুরক্ষা আইনের অধীনে আরও একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করা হতে পারে। এই চক্র বা টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলি পরিচালনায় ও প্রচারে আর কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই নেটওয়ার্কের পরিধি কতটা বিস্তৃত তা জানতে তদন্ত জারি রয়েছে এবং আগামী দিনে এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারীরা।






