দেশ

হাসপাতালের লিফটেই আক্রান্ত নারী কর্মী, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল ছিনতাইয়ের রোমহর্ষক দৃশ্য

ওই সময় মুখে মাস্ক পরা এক যুবক লিফটে উঠে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলতে শুরু করে এবং চক্ষু বিভাগ কোন তলায় রয়েছে, তা জানতে চায়।

Truth Of Bengal: ভোপালের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ রবিবার ডিউটির সময় লিফটের ভেতরে এক নারী কর্মীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সামনে আসে।

আক্রান্ত কর্মীর নাম বর্ষা সোনি। তিনি গাইনোকোলজি বিভাগে অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের পেছনের একটি লিফটে তিনি একা ছিলেন। ওই সময় মুখে মাস্ক পরা এক যুবক লিফটে উঠে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলতে শুরু করে এবং চক্ষু বিভাগ কোন তলায় রয়েছে, তা জানতে চায়।

লিফটটি তৃতীয় তলায় পৌঁছনোর পর যুবকটি বাইরে বেরিয়ে আবার ফিরে এসে বর্ষা সোনির দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে তাঁর সোনার মুক্তোর হার ও মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বর্ষা বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি সিঁড়ির দিকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সে মঙ্গলসূত্রটি নিয়ে যায়, তবে মুক্তোর হারটি ছিঁড়ে লিফটের মেঝেতে পড়ে যায়।

ঘটনার সময় ওই লিফট এলাকায় কোনো নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। ছিনতাইয়ের পর আতঙ্কিত ও ভেঙে পড়া বর্ষা সোনি লিফটের কাছেই বসে ছিলেন। পরে নিয়মিত টহলের সময় এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে দেখতে পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

এ ঘটনায় বাঘসেওয়ানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত হয়নি।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রবিবার হওয়ায় নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইপিডি গেট দিয়ে হাসপাতাল চত্বর ছাড়ে। নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ ঢাকা থাকায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে।

এর আগেও AIIMS ভোপাল চত্বরে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে লিফটের মতো নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ বলে ধরা জায়গায় কোনো নারী কর্মীর কাছ থেকে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনাকে একক হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। ভোপাল শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর হওয়ার পর চেন, ব্যাগ বা মোবাইল ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের শ্রেণিবিভাগ বদলেছে।

আগে এসব অপরাধ ডাকাতির আওতায় পড়ে ১০ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। বর্তমানে ‘ছিনতাই’ হিসেবে সর্বোচ্চ তিন বছরের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রেপ্তার বাধ্যতামূলক নয় এবং সহজেই জামিন পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভোপালে ৩৯টি ছিনতাইয়ের মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬৫টির বেশি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভোপালে প্রতি দুইটি পথঅপরাধের মধ্যে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। এর ফলে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Related Articles