হরিয়ানায় ফের পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার যোগ, গ্রেফতার এক পড়ুয়া
Pakistani spy agency joins Haryana again, student arrested
Truth Of Bengal: হরিয়ানায় ফের পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার যোগ। এবার এক ছাত্রের সঙ্গে পাক এজেন্সির সংযোগের অভিযোগ উঠেছে। হরিয়ানার কৈঠাল জেলার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি ওই তরুণ, দেবেন্দ্র সিংহ, বর্তমানে পঞ্জাবের পটিয়ালার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন। সম্প্রতি অস্ত্র হাতে ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয় এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হরিয়ানা পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই দেবেন্দ্রর পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে বলে জানিয়েছেন কৈঠালের পুলিশ সুপার আস্থা মোদী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান গিয়েছিলেন দেবেন্দ্র। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে পাক গুপ্তচরদের যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং দেশে ফিরে এসেও তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত পটিয়ালা সেনানিবেশের (ক্যান্টনমেন্ট) বাইরের কিছু ছবি তুলে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। যদিও পুলিশ এখনও সেই দাবি যাচাই করছে। তাঁর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও কোনও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, দেবেন্দ্র পাক গুপ্তচরদের হাতে কোনও সংবেদনশীল তথ্য তুলে দিয়েছিলেন কি না। এর আগে হরিয়ানার পানিপথ থেকে পাক চরবৃত্তির অভিযোগে নোমান ইলাহী নামে উত্তরপ্রদেশের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনিও পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করতেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানকে গোপন তথ্য পাচার করে জামাইবাবু এবং এক গাড়ির চালকের অ্যাকাউন্টে টাকা নিতেন নৌমান। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল দেবেন্দ্র সিংহের নামও। পুলিশ গোটা বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। সেইসঙ্গে ওই যুবককে জোরকদমে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসী হামলায় ২৮ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ছড়ায় উত্তেজনা। গত ৭ মে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালায়। এই ঘটনার পর সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এরপর ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। সীমান্তে শান্তি বিরাজ করার পর সীমান্তে আন্তঃসীমান্ত গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশ জুড়ে চলছে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজ।






